এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে জীবিকার তাগিদে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিরতে শুরু করেছে। শনিবার সকাল থেকেই কর্মস্থলগামী মানুষ ও তাদের বয়ে আনা বিভিন্ন যানবাহনের চাপ শুরু হয় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায়। সময় বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে যানবাহন ও মানুষের ঢল।

দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরা ভিড়ার সাথ সাথেই অসয়খ্য যাত্রী ও মোটরসাইকেল উঠে ফেরিতে জায়গা দখল করে রাখছে।ফলে ফেরিতে গাড়ী উঠতে পারছে না।

এতে করে ঘাটে গাড়ি আটকে থেকে থেকে ক্রমেই সিরায়াল বড় হচ্ছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রী ও গাড়ির সংথ্যা বাড়ছে।আর তীব্র গরমে ও ভীড়ে যাত্রীদের দূভোগ আরো বাড়ছে।

এদিকে বিআইডাব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যাবস্থাপক (বানিজ্য) মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, এই ঈদে যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন করতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২১ টি ফেরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। যারমধ্যে ২ টি ফেরি বিকল হয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামতে রয়েছে। বাকি ১৯ টি ফেরি দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে।

তার মধ্যে আরো বড় ২টি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ধীর গতিতে চলায় টিপের সংথ্যা তমে গেছে। ফলে যানহট ও জনজট ক্রমেই বাড়ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে গিয়ে যাত্রীদের উপচে পরা ভীর। তবে পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকায় সেখানে তেমন ভোগান্তি নেই। তবে ধারন ক্ষমতার অধিক যাত্রি পারাপার করা হচ্ছে বলে অনেক যাত্রীই অভিযোগ করেন। অপর দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পল্টুনে দেখাযায়, ভেঙ্গে ভেঙ্গে আসা অসংখ্য যাত্রী ফেরিতে পদ্মা নদী পারি দিয়ে গন্তব্যে ফিরছেন। প্রতিটি ফেরিতে সাধারন যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। সাধারন যাত্রীর চাপে ফেরিতে যানবাহনের পূর্ণ লোড নেয়া সম্ভব হয়নি। প্রতিটি ফেরির ডেকে সাধারন যাত্রীদের ভীড়ে যানবাহন উঠার মত পরিস্থিতি ছিল না।

এদিকে কর্মস্থলগামী মানুষকে বয়ে আনা স্থানীয় যানবাহন ও দুরপাল্লার যানবাহনের চাপে দৌলতদিয়া ঘাট অভিমুখে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া নদী পারের অপেক্ষায় আটকে থাকা যানবাহনের সারি অন্তত সাড়ে ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। এতে করে ঢাকা-খুলনা মহা সড়কের দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ বাজার পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার এলাকায় পারের অপেক্ষায় আটকে পরে যাত্রীবাহি বাসসহ ৮শতাধিক ছোট-বড় যানবাহন।

ফরিদপুর থেকে আসা যাত্রী সোহল রহমান বলেন, ফরিদপুর থেকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে তিনি ঘাট পর্যন্ত এসে পৌঁছেছেন। এতে সড়কে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুন/ তিনগুন ভারা লেগেছে তার। এরপর ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

কুষ্টিয়া থেকে আসা জেআর পরিবহনের যাত্রি তাহমিনা আক্তার বলেন, ঈদে বাড়ি যেতে এই ঘাটে তেমন একটা ভোগান্তি না হলেও এখন ফিরে যেতে ভোগান্তি হচ্ছে। তীব্র রোদের মধ্যে প্রচন্ড গরম সহ্য করে নদী পারের জন্য বাসের মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে আছি। জানি না কতক্ষনে ফেরি নাগাল পাবে বাসটি।

অপরদিকে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি ও লঞ্চে যাতে কেউ বাড়তি টাকা না নিতে পারে সেজন্য জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্টেটকে নজরদারি করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে যাতে সকলে নিয়ম মেনে পার হয় সেজন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের তদারকি করতে দেখা গেছে।

বিআইডাব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যাবস্থাপক (বানিজ্য) মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, এই ঈদে যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন করতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২১ টি ফেরি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। যারমধ্যে ২ টি ফেরি বিকল হয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামতে রয়েছে। বাকি ১৯ টি ফেরি দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে।