এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : দৌলতদিয়ায় ঢাকার কর্মস্থলমুখী দক্ষিণাঞ্চলের ঈদ ফেরত যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কিছুটা কমলেও বেড়েছে পণ্যবাহী ট্রাকের চাপ। ফলে মহাসড়কে প্রায় সাত কিলোমিটার যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।

রোববার (৮ মে) সকাল ৮টার দিকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়ক ও গোয়ালন্দ মোড়ের কুষ্টিয়ামুখী আঞ্চলিক সড়কে এ চিত্র দেখা যায়। এরমধ্যে যাত্রীবাহী বাস, পচনশীল ও অপচনশীন পণ্যবাহী ট্রাক এবং কাভার্ডভ্যান রয়েছে। তবে গত কয়েকদিনের তুলনা কমেছে ঢাকামুখী যাত্রীবাহী বাস, ছোট গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চাপ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ডিজিএম শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট বড় ২১টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া থেকে ৮ হাজার ৩৯০টি যানবাহন ফেরি পার হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শিমুলিয়া ঘাট প্রায় বন্ধ থাকায় এবার এ ঘাটে চাপ তিনগুন পরেছে। ওই ঘাট ঠিকমত চালু থাকলে ঈদের সময় দৌলতদিয়া পাটুরিয়ায় প্রতি ২৪ ঘন্টায় ছয়/ সাড় ছয় হাজার গাড়ি পার হত।কিন্তু এবার সেখানে ৮/৯ হাজার গাড়ি পার করতে হয়েছে।যার কারনে চাপ অনেকটা বেসামাল হয়ে পরেছে।

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে শনিবার মধ্যরাতে এসে এখনো ফেরির দেখা পাননি অনেক যাত্রীবাহি বাস। ফলে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে কষ্টে ঘুমিয়ে পড়ছেন বাসে থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। বিআইডাব্লিউটিসর ঘাট ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন জানান,গত রাত থেকে এ নৌরুটে ২১ টি ফেরি চলাচল করছে।

রোববার সকাল থেকেই হোন্ডা, প্রাইভেট কার ও লুচ যাত্রীর চাপ কম রয়েছে। দুপুর ১১ টায় ঘাটের রাস্তায় সাড় তিনশ বাস রয়েছে। তবে পন্যবাহি ট্রাকের চাপ থাকলেও আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহি বাস ও ছোট গাড়ি পার করছি। আশা করা যায়,

দুপুর পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাসের চাপ স্বাভাবিক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছ।

অন্যদিকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ফেরিতে উঠতে না পারায় পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকের চালকরা পড়েছেন বিপাকে। সময়মতো মালামাল পরিবহন করতে না পেরে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। এ সময় তরমুজবাহী একটি ট্রাক থেকে পানিও পড়তে দেখা যায়।

তরমুজ ব্যবসায়ী ছবদুল মিয়া বলেন, বরগুনা থেকে ট্রাকে তরমুজ নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি। রাত ২টায় দৌলতদিয়া এলাকায় এলেও দুপুর ১১ টা বাজে।এখন পর্যন্ত ফেরি পাইনি। দুই লাখ টাকা মাল কেনা, এরওপর গাড়ি ভাড়া। এখন কী হবে বুঝতে পারছি না। এদিকে তরমুজও নষ্ট হচ্ছে।

আলমগীরসহ একাধিক ট্রাক চালক বলেন, তারা বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় তরমুজ নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু রাতে গোয়ালন্দ থেকে যানজট ঠেলতে ঠেলতে ঘাটের দিকে এসেছেন। তবে ফেরি ঘাট এখনো কয়েক কিলোমিটার দূরে। গরমে তরমুজ ফেটে পানি পড়ছে। সময়মত মাল না পেয়ে পার্টি রাগারাগি করছে।

ঢাকামুখী যাত্রী আসলাম, তোরাব, রাসেলসহ অনেকে বলেন, দৌলতদিয়ায় ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। দীর্ঘ আট ঘণ্টা ধরে ফেরির অপেক্ষায় আছি। গরম আর সহ্য হচ্ছে না। খাবার ও টয়লেটের ভালো ব্যবস্থা নেই। যে সময় হিসাব করে বাসা থেকে বের হয়েছি, সে হিসাবে যেতে পারছি না।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের চালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাত ২টার দিকে এসে ১১টার দিকে ফেরি ঘাটের কাছাকাছি এসেছি। গরমে যাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। ফেরি ভালোভাবে চললে এরকম সিরিয়ালে থাকতে হতো না।

২১টি ফেরি চলে আসলে ১৬/১৭ টির বেশি ফেরি এ ঘাটে কখনও চলে না। তবে ২১টি ফেরি ঠিকমত চললে ঘন্টায় হাজার টি গাড়ি আসলেও কোন জ্যাম হত না।