এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশদ্বারখ্যাত দেশের ব্যস্ততম নৌ-রুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ঈদের আগেই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।

ফেরি ও ঘাট সংকট, ফেরি সেক্টরে লোকবল সংকট, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এ দুর্ভোগ। এ ছাড়া মহাসড়কে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ফলে তীব্র রোদ ও প্রচণ্ড গরমে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন পরিবহণ যাত্রী, চালক, হেলপার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ ঘাট সংশ্লিষ্টরা।

ঈদের আগে যাত্রী ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে এ রুটে ফেরি সংখ্যা বাড়িয়ে ২১টিতে উন্নীত করার কথা বলেছে ফেরি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত তা বাড়েনি। এ নৌ-রুটের দুইটি রোরো (বড়) ফেরি বিকল হয়ে মেরামতে রয়েছে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমিতিতে। আরো দুটি বড় ফেরি নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে রয়েছে। সেইসঙ্গে ফেরি সেক্টরে রয়েছে লোকবল সংকট। মঙ্গলবার এ রুটে চলে মাত্র ১৭টি ফেরি। বাড়েনি লঞ্চের সংখ্যাও।

বুধবার সকাল ৯টার দিকে সরেজমিন ঘাট ঘুরে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ বাজার রেলগেইট পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এর কোথাও কোথাও মহাসড়কে ২-৩টি সারি সৃষ্টি হয়ে পুরো রাস্তাটিই বন্ধ হয়ে থাকছে।

দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের ম‍্যানেজার নুরুল আনোয়ার মিলন জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ৩৩টি ছোট লঞ্চ চলাচল করে। এই দুই নৌরুটে পর্যায়ক্রমে ১৬ এবং ১৭টি করে লঞ্চ চালানো হয়। ঈদের বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আমাদের কোনো প্রকার অতিরিক্ত লঞ্চ নেই। তবে রাতে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে। সেই লঞ্চগুলো রাতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ার বহরে যোগ হবে।

আলাপকালে একাধিক যানবাহন চালক জানান, ঘাটের দুর্ভোগ শেষ হয়েও হচ্ছে না। ঈদে এই দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। তারা বলেন, পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির আন্তরিকতা থাকলে কিছুটা যানজট সহনীয় অবস্থায় আসতে পারে। তবে এই নৌরুটে ফেরি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

আব্দুল কাদের নামের এক যাত্রী বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটের দুর্ভোগ অনেকটা কৃত্রিম। কারণ দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে দালাল চক্র ও সুবিধাভোগী চালকদের কারণে দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পায়।

কয়েকজন অপচনশীল পণ্যের ট্রাকচালক অভিযোগ করে বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে দালালদের মধ্যস্ততায় টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল ভঙ্গ করে ট্রাফিক পুলিশ অনেক গাড়িকে আগে ফেরিতে ওঠার সুযোগ করে দিচ্ছে। যাদের টাকা নেই তারা ঘাটেই আটকে তীব্র গরমে চরম দুভোগের শিকার হচ্ছেন।