এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : দেশের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সংকট ও দৌলতদিয়ায় ঘাট সংকটে নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকা শতাধিক যাত্রীবাহি বাস ও

পণ্যবাহী ট্রাকের লম্বা সারি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া যাত্রীবাহী পরিবহনগুলোকেও ফেরির নাগাল পেতে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা।

রোববার সকাল থেকেই দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফিড মিল পযন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশ জুড়ে ২শতাধিক যাত্রীবাহি বাস, প্রাইভেট কার ও ঘাট থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ মোড়ের প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কে পণ্যবাহী ট্রাকের লাইন তৈরি হয়েছে। এরমধ্যে কিছু যাত্রীবাহী পরিবহনও রয়েছে।

আরও জানা গেছে, বর্তমানে এই রুটে ১৯টি ফেরির স্থানে চলাচল করছে ১৭টি। এছাড়া দৌলতদিয়া প্রান্তের চারটি ফেরি ঘাটের তিনটি ঘাট সচল রয়েছে। নদীর পানি বাড়ায় সকাল ১০টার দিকে ৫ নম্বর ঘাট বন্ধ রেখে কাজ শুরু করে বিআইডব্লিউটিএ। পরবর্তীতে ৩ নম্বর ঘাট বন্ধ করে উঁচু করার কাজ শুরু করা হয়। যার কারণে দৌলতদিয়ায় যানবাহনের সারি তৈরি হচ্ছে। তবে যাত্রীবাহী ও পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক অগ্রাধিকারভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

দৌলতদিয়া ঘাট লঞ্চ ঘাটের মোড়ের সামনে ২ ঘন্টা যাবত দাড়িয়ে থাকা সপ্তবর্না বাসের যাত্রী সোহেল মোল্লা, সাইদুল আলম ও আকবর মিয়াসহ অন্যান্য বাসের কয়েকজন যাত্রী জানান, তারা প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা দৌলতদিয়া প্রান্তে নদী পারের জন্য অপেক্ষা করছেন। ঘাটে কাজ চলার কারণে এরকম হচ্ছে বলে শুনেছেন। তারা বলছেন, ঈদের ছুটি শেষে ঈদের ফেরত যাত্রীরা সব চলে গেলও এখন কেন ঘাটে জ্যাম হবে। সাড়া বছরই এ দুরাবস্থার জন্য কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়ার সহকারী ঘাট ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন জানান, এ নৌরুটে ছোট-বড় ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। এবং দৌলতদিয়া প্রান্তে ঘাট সচল আছে তিনটি । যে কারণে যানবাহনের কিছু সিরিয়াল আছে।

অন্যদিকে ঘাটে আটকে পরা ট্রাক চালকরা বলছেন অন্যকথা। তারা বলেন, এ রুটে ১৮ টি ফেরি চলে না।আসলে ছোট বড় মিলে ফেরি চলে মাত্র ১২/১৩ টি। তাও রাতে আরো কম চলে।তাছাড়া ঘাটের কিছু নিদৃষ্ট দালাল আছে।যারা রাতে পুলিশের সামনেই পরে আসা ট্রাক সিরিয়াল ভেঙ্গে বেশি টাকায় আগে পার করায় প্রতিদিনই দৌলতদিয়া প্রান্তে ট্রাক জট লেগেই থাকছে। এ ঘাট থাকতে এর কোন সমাধান আর হবে না।