এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও নাব্যতা সংকট দূর করতে খনন যন্ত্র কাজ করায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

অপরদিকে প্রয়োজনের তুলনায় ফেরি ও ঘাট স্বল্পতার কারণেও দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় নদী পারের অপেক্ষায় আটকে থাকা যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটে দেখা যায়, দৌলতদিয়া প্রান্তে ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারীজ পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকায় পারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে আছে রাজধানীমূখি যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহি ট্রাকসহ প্রায় ৫শতাধিক যানবাহন।

অপরদিকে ঘাটকে যানজট মুক্ত রাখতে ঘাট থেকে প্রায় ১৪কিলোমিটার দুরে গোয়ালন্দ মোড়ের রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ২কিলোমিটার এলাকায় আটকে রাখা হয়েছে প্রায় ২শতাধিক পণ্যবাহি ট্রাক। সব মিলিয়ে ফেরিপারের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ৭শতাধিক যানবাহন।

এর মধ্যে পন্যবাহি ট্রাকের সংখ্যাই বেশী। এ সময় যাত্রীবাহি যানবাহন ও পচনশীল দ্রব্যের যানবাহনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার হতে দেখা গেলেও প্রচন্ড গরমে দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে আটকে থাকা যানবাহনের যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

পিঁয়াজ ভর্তি ট্রাক চালক আলমগীর হোসেন জানান, ৬/৭ ঘন্টা হলো ফেরিঘাটের সিরিয়ালে আটকে আছি। প্রচন্ড রোদ্রে আমাদের নিজেদের টিকে থাকা দায়। সেখানে গাড়িতে লোড করা রয়েছে পিঁয়াজ যা প্রচন্ড রোদ্রের তাপে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পিঁয়াজের ক্ষতি হলে পার্টি আমাদের বিল দিতে চায় না। দিলেও গরিমসি করে। খুব ঝামেলাই পড়তে হয়।

অপচনশীল পন্যবাহি ট্রাক চালক রাসেল মিয়া জানান, কয়েকদিন আগেও ঘাটের পরিস্থিতি খুবই ভাল ছিল। এ জন্যই এ ঘাট দিয়ে এসেছি। কিন্তু গত সোমবার দুপুরে গোয়ালন্দ মোড়ে এসে সিরিয়ালে আটকে ছিলাম। সেখান থেকে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ঘাটে এসে পৌছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ গেটে এসে সিরিয়ালে আটকে আছি, আজকেও নদী পার হতে পারবো কিনা সন্দেহ আছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জামাল উদ্দিন জানান, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় এ নৌরুটে যানবাহনের চাপ বেশী। এ নৌরুটে ২০টি ফেরির মধ্যে ছোট বড় ১৮টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

অপর ফেরি দুটির পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামত কাজ চলছে। আশা করছি খুব দ্রুতই মেরামতে থাকা ফেরি দুটি আমাদের বহরে এসে যোগ দেবে। এছাড়া নদীতে সৃষ্ট ডুবো চরে ফেরি আটকে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়ায় নৌরুটে ড্রেজিং কাজ চলছে। এ কারণেও ফেরি চলাচল কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।