শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ইউকে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে রোববার বিকেলে লে স্ট্রিট ক্যাফে রুমা হলরুমে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ক্ষনিকের জীবদ্দশায় রাষ্ট্রীয় কর্মময় জীবনের সফলতা ও আপামর জনসাধারণ তাকে এতো বেশি ভালবাসার কারণ নিয়ে আলোকপাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় জিয়া পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এমএ জলিল খাঁন ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কবি কাওছার মাহমুদ।

ইউকে জিয়া পরিষদের আহবায়ক মোহাম্মদ মাসুদের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ন আহবায়ক প্রফেসর ইকবাল খাঁন ও যুগ্ন আহবায়ক আহসান উদ্দিন মানিক হাইয়ের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের সাবেক জিএস খুলনা বিভাগীয় বিএনপির আহবায়ক মনজুর হাসান প্লটু, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মঈন, মো: ইব্রহিম, মো. ওমর ফারুক, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম, মোল্লা ফিরুজ আকন্দ, মো. জাকির হোসাইন, মোহম্মদ আলম, মো. মাসুদুর রহমান, মো. মাহামুদুর রশিদ, মো. সুমন খান, রানা হামিদ, বিএম ফারুক, সাখাওয়াত হোসেন, খায়রুল কবির, দিদার আলম, আনোয়ার মেম্বার প্রমুখ।

দোয়া পরিচালনা করেন ওলামা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শামিম আহম্মেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় জিয়া পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিল খান বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্রাগাম সার্কিট হাউজে কিছু বিপথগামী সামরিক বাহিনীর সদস্যের গুলিতে প্রেসিডেন্টে জিয়াউর রহমানকে নির্মম হত্যাকান্ডের মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে বিরাট ক্ষতিসহ মুসলিম বিশ্বের নিদারুণ ক্ষতি হয়েছিল।

মরহুম প্রেসিডেন্টে জিয়াউর রহমান সত্যিকার একজন দেশপ্রেমিক হিসাবে দেশের মানুষের সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য একান্তভাবে কাজ করেছিলেন।

তিনি স্বনির্ভরতা অর্জন ও জাতীকে পূর্ণগঠনের কাজ শুরু করছিলেন। তাই জনগণের মধ্যে ব্যাপক আশা ও চেতনার সঞ্চার করে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই আল্লাহর অশেষ রহমতে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়ে নূনতম খাদ্য চাহিদার ৭০ শতাংশ দেশেই উৎপাদন করতে সক্ষম হন। তলাবিহীন ঝুড়িকে অধিক ফসল উৎপাদন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। বাংলাদেশ থেকে সর্বপ্রথম মধ্যপ্রাচ্য, সৌদী আরব, আরব আমিরত, কুয়েত, কাতার, বাহারাইন, জাপান, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

আমাদের মহান নেতা মরহুম শহীদ প্রেসিডেন্টে জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যাকান্ডের পর সারা বিশ্বের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানরা ব্যথিত ও শোকসন্তপ্ত হয়েছিলেন এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের কাছে শোকবার্তা প্রেরণ করেছিলেন। এসব দেশের মধ্যে ছিলো মোরতানিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, জামাইকা, পপজন পল, আইএলও, মধ্য আফ্রিকা, বিশ্ব শান্তি পরিষদ, আলজেরিয়া, ইন্দোনেশীয়া, রেডক্রস, কিউবা, উত্তর-দক্ষিণ কোরিয়া, ফান্স, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, বেলজিয়াম, অষ্টলিয়া, বুলগেরিয়া, জাপান, পাকিস্তান, ভারত, সৌদী আরব, চীন, বৃটেন, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনলেন্ড, নরওয়ে, রাশিয়া, স্পেন, পর্তূগীজ, অষ্টিয়া, মিশরসহ অনেক দেশ।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কবি কাওসার মাহমুদ বলেন, জিয়া মানে অনুভূতি, রক্তে বীরের রেশ, জিয়া মানেই লাল-সবুজে, স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বদেশে বিদেশে আমাদের রয়েছে যা কীর্তিমান, নেপথ্যে তুমিই একজন জিয়াউর রহমান।

তিনি আরো বলেন, একটি রাষ্ট্রের অবকাঠামো বৃদ্ধির জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। এই ১৯ দফার লক্ষ্যই ছিল এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষ্য।

প্রফেসর ইকবাল খাঁন বক্তৃতায় বলেন, জিয়া একটি নাম, একটি আন্দোলন, একটি সংগ্রাম, একটি স্বাধীনতা, একটি স্বাধীনতার যুদ্ধ, একটি সফল যুদ্ধ, একটি বিপ্লব, একটি ঘোষণা, একটি জাতীয়তাবাদ, একটি ব্যক্তিত্ব। একাধারে এতগুলো গুণ কোন মানুষের মধ্যে পাওয়া নিশ্চয়ই বিরল। তাই বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জিয়াউর রহমানের নামটি মানুষের হৃদয়ের মধ্যে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অন্যান্য নেতারাও জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে বক্তৃতা করেন। শেষে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবারের সকল সদস্যের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনাসহ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর রূহের মাগফেরাত কামনা এবং মামলা-হামলা গুম-খুনের শিকার হয়ে বিএনপি পরিবারের যে সমস্ত নেতাকর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের সকলের জন্য বিশেষ মুনাজাত করা হয়। – বিজ্ঞপ্তি