জেলেরা তাদের থাকার জন্য অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করছে। ছবিগুলো বুধবার দুপুরে দুবলার আলোরকোল থেকে তোলা। ছবি: প্রতিনিধি   

শেখ মোহাম্মদ আলী, সুন্দরবন অঞ্চল প্রতিনিধি : দুবলারচরের শুঁটকি জেলেরা মৌশুমের শুরুতে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আকষ্মিক দূর্যোগের কবলে পড়েছেন। উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে না পেরে জেলেরা চরে ফিরে এসেছেন। দুবলার চারটি চরে প্রায় দশ হাজার জেলে তাদের মাথা গোঁজার জন্য অস্থায়ী ছাউনী তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দুবলা ফিসারমেন গ্রæপের চেয়ারম্যান মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ দুবলারচর থেকে মুঠোফোনে জানান, শুঁটিকি মৌশুমের শুরুতে জেলেরা তাদের ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে মাছ ধরার জন্য মঙ্গলবার সকালে বঙ্গোপসাগরে যায়। মঙ্গলবার বিকেল থেকে সাগরে আকষ্মিক প্রবল ঢেউ দমকা বাতাসের সাথে বৃষ্টি শুরু হয়। উত্তাল সাগরে ঠিকতে না পেরে মাছধরা বন্ধ রেখে জেলেরা সন্ধ্যা থেকে তীরের দিকে ছুটতে থাকে। দুবলার আলোরকোলে তিন শতাধিক জেলে নৌকা নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে এছাড়া অনেক জেলে তাদের মাথা গোঁজার জন্য বাঁশ খুটি দিয়ে অস্থায়ী ছাউনী নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে ফিসারমেন গ্রুপের চেয়ারম্যান জানান।

দুবলারচরের শুঁটকি জেলেরা উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে চরে নিরাপদে আশ্রয়ে রয়েছে। ছবি: প্রতিনিধি

দুবলার মাঝেরকেল্লা থেকে পিরোজপুরের জেলে আলাল হোসেন জানান, মৌশুমের শুরুতে প্রথমবার মঙ্গলবার সকালে সাগরে মাছ ধরতে যাই বিকেলে সাগরে হঠাত করে সৃষ্ট প্রচন্ড ঢেউয়ের সাথে বৃষ্টির কারণে সাগরে থাকতে না পেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা তীরে ফিরে এসেছেন

জেলে পল্লী দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহলাদ চন্দ্র রায় মোবাইল ফোনে বলেন, বুধবার দুপুর পর্যন্ত দুবলা অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়েছে সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে ফিরে এসেছেন। সাগরে মাছ ধরে শুঁটকিকরণের জন্য দুবলার আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়ীয়া ও শ্যালারচরে প্রায় দশ হাজার জেলে অবস্থান নিয়েছেন। এ বছর জেলেদের অস্থায়ী ভাবে থাকার জন্য ৯৮৫ টি জেলে ঘর, ৬৬ টি ডিপো ঘর এবং ৯৬ টি দোকানঘর নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জেলেরা ঘর নির্মাণের জন্য সুন্দরবনের কোন বনজদ্রব্য ব্যবহার করতে পারবেননা তাদেরকে বাঁশ খুটি ও ত্রিপল ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে ঐ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান।