নিজস্ব প্রতিবেদক : দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ করে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধির দাবী জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। একই সাথে তারা বর্তমানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পূণর্গঠনেরও আহবান জানান।

ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট এর উদ্যোগে আজ “জাতীয় বাজেটঃ প্রেক্ষিত- স্বাস্থ্য ও পরিবেশ” শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তারা এসব কথা বলেন।

ওয়েবিনারে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক ডা. রশিদ -ই-মাহবুব, সাবেক সভাপতি, বিএমএ, ড. মোস্তাফিজুর রহমান, বিশেষ ফেলো, সিপিডি, ডাঃ এ. এম. জাকির হোসেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও রোগ নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর (আইইডিসিআর)-এর সাবেক পরিচালক ও বাপা’র পরিবেশ স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটির আহবায়ক, অধ্যাপক ডা. শাকিল আখতার, সদস্য সচিব, ডক্টরর্স প্লাটর্ফম ফর পিপলস হেলথ, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ, স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মনজুরুল আহসান বুলবুল, সভাপতি, বাংলাদেশ ফেডারেশন সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)।

এতে মূল বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম সাবেক উপাচার্য, বিএসএমএমইউ, অধ্যাপক নাজমুন নাহার, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তাক হোসে প্রমুখ ।

সভাপতিত্ব করেন, ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, সংগঠনের যুগ্ম-সম্পাদক, ডা এম এইচ ফারুকী এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ডা. এম. গোলাম আযম।

মূল বক্তব্যে ডা এম এইচ ফারুকী বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা তথা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবেই উপেক্ষিত, তা সরকারের নীতি ও পরিকল্পনায়, অব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় সরকারি অর্থায়নে অনিহা, অবহেলা এবং সর্বোপরি দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন ও বেসরকারী করণ প্রক্রিয়া দ্বারাই প্রমানিত। জনগণ সেবার প্রতিটি স্তরেই ভুক্তভোগী, প্রতিটি মুহূর্তে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। দেশের স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সংকট, সীমাবদ্ধতা ও অব্যবস্থাপনা করোনাকালীন সংকটে আরো প্রকট ও নগ্নভাবে দেশবাসী তথা সমগ্র বিশ্ববাসীর সামনে দৃশ্যমান হয়েছে।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, আগের বছরের দশ হাজার কোটি টাকা কোথায় খরচ হয়েছে এবং আগামীর জন্য বরাদ্দের দশ হাজার কোটি টাকা কোথায় ব্যয় হবে সেটির হিসাব জনগনের নিটক পেশ করার দাবী জানান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হচ্ছে না গোটা জাতীকে ভাবিয়ে তুলেছে। নাগরিক হেলথ কমিশন গঠন করার দাবী করেন তিনি।

অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, স্বাস্থ্যখাতের দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ করে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধির দাবী জানান। তিনি বর্তমানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের আহবান জানান।

অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি পরিবেশের স্বাস্থ্যও ঠিক রাখার দাবী জানান। তিনি বলেন জনগণের স্বাস্থ্য জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারাই তাই সবাইকে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার আহবান জানান।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনা ও অসামজস্যতা দূর করার দাবী জানান।সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকর সক্ষমতা বৃদ্ধি করার আহবান জানান তিনি। সার্বনীম্ন স্বাস্থ্য বিমা চালুর দাবী করেন।

ডাঃ এ. এম. জাকির হোসেন বলেন, মানুষের শারিরীক স্বাস্থ্যের সাথে সাথে মানুষের মানসিক স্বোস্থ্যেরও উন্নয়ন করতে হবে।

অধ্যাপক ডা. শাকিল আখতার বলেন, আমাদের হতাশার বাজেট এটি। এখানে কোন নতুন প্রত্যাশা ও দিক নির্দেশনা নাই।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, স্বাস্থ্য সেবার চাইতে স্বাস্থ্যখাতে ব্যবসা করার দিকেই সরকরার একটি বিশেষ গোষ্টিকে সুযোগ সৃষ্টি করার দিকে বেশী মনোযোগী ছিল বলে তিনি মনে করেন।

অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পর্যায়ে অক্সিজেন এবং জেলা পর্যায়ে আইসিইউ চালু করার দাবী জানান।

অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরকার নতুন কোন ভিসন গ্রহন করেনি। যার জন্য গতানুগতিক বাজেট এবছর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, স্বাস্থ্যখাতের তথ্যগত অব্যবস্থাপনার কারণ বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। জনমূখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গঠনের আবেদন জানান তিনি। তিনি বলেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দিকে নিয়মিত নজর না দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যখাতে এতো অব্যাবস্থাপনা। সেই সাথে তিনি সামগ্রিক পরিকল্পনার অভাব বলেও মন্তব্য করেন।