সফিকুল ইসলাম শাওন, কাঠালিয়া থেকে : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা। আর কয়েক দিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে এ শারদীয় দূর্গোৎসব। এ উপলক্ষে কাঠালিয়ায় ৫৫টির বেশী পূজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৃৎ শিল্পীরা। কাশফোটা শরতের শারদীয় দূর্গোৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্ততি।

প্রতিমা শিল্পীর কল্পনায় দেবী দূর্গার অনিন্দ্যসুন্দর রূপ দিতে দিন-রাত চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। ইতিমধ্যে প্রতিমার কাঠামোর মাটির কাজ প্রায় শেষ। এরপর শুরু হবে রং ও সাজসজ্জর কাজ।

স্থানীয় কারিগর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কারিগররা এখানে এসে তৈরি করছেন মাটির প্রতিমা। প্রতিটি পূজামন্ডপের জন্য তৈরি করা হচ্ছে দূর্গা, লক্ষী, স্বরস্বতী, কার্তিক, গনেশ, অসুর, সিংহ, মহিষ, পেঁচা, হাঁস, সর্পসহ প্রায় ১২টি প্রতিমা। হিন্দু সম্প্রদায়ের দূর্গতিনাশীনী দুর্গাদেবীকে বরণ করে নিতে মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ, সাজসজ্জার কাজ চলছে। ঢাক, ঢোল বাদ্যকাররা বাদ্যযন্ত্র ঠিকঠাক করে নিচ্ছে।

দেবীকে স্বাগত জানাতে সর্বত্র আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে উপজেলার হিন্দুপাড়াগুলোতে শারদীয় উৎসবের আগাম আমেজ লক্ষণীয়। উঁচু-নিচুর বিভেদ ভুলে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একত্র করে মহা-সম্মিলন হয় বলে এ পূজাকে বলা হয় সার্বজনীন পূজা। আর শরৎকালে হয় বলে একে বলা হয় শারদীয় উৎসব।

দূর্গাপূজাকে সমান রেখে কাঠালিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৫৫টির বেশী মন্ডপের পূজা উদযাপন কমিটিও ব্যস্ত সময় পার করছে। কোন কোন মন্ডপে প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি সাজসজ্জার প্রস্ততিও চলছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৫ দিনব্যাপী সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা শুরু হবে।

কাঠালিয়া কেন্দ্রীয় পুজো কমিটির সভাপতি যগ বন্ধু ও সাধারণ সম্পাদক নৃপেন মন্ডল (নিপু) বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ, ছোট-বড় সব বয়সী মানুষ এ সর্ববৃহৎ শারদীয় উৎসবকে স্বার্থক করতে প্রহর গুনছে। সব মিলিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে প্রতিটি পূজা মন্ডপে।