ফাইল ছবি

খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা দেড় বছর আগে বলেছি- একটা সোর্স (উৎস) থেকে যাতে টিকা আনা না হয়। কিন্তু সরকার নিজেদের স্বার্থে একটা সোর্স থেকে টিকা আনতে চেয়েছিল। আমরা বলেছিলাম, বিকল্প হিসেবে চীন ও রাশিয়ার উৎসগুলো দেখা হোক। তখন সরকার তা করেনি। এত দিন পর আবার চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সরকার চুক্তি করছে। এ সরকার ঘোলা করে পানি খায়। এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। এদের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতেই হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, শুধু একটা কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য, দুর্নীতি করার জন্য সেটিকে (কোম্পানি) টিকা আনার অনুমতি দিয়েছে সরকার। সরকারের কারো কাছে জবাবদিহি নেই। জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নেই। তাই আজকে করোনাভাইরাস নিয়ে সরকার ব্যবসা করছে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে ‘গুম-খুন-নির্যাতিত’ পরিবারকে ঈদের শুভেচ্ছা বিতরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‘গুম-খুন ও নির্যাতিত’ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতি বছর এ ধরনের অনুষ্ঠান আমাদের আবেগাপ্লুত করে। আপনাদের যে ক্ষতি হয়েছে, এই ক্ষতি পূরণ করার শক্তি আমাদের নেই। তা সম্ভবও নয়।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতি বছর আপনাদের সামনে যখন এভাবে উপস্থিত হই, নিজেদের অপরাধী মনে হয়। কারণ এখন পর্যন্ত আমরা অবস্থার পরিবর্তন করতে পারিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, যে উদ্দেশে আন্দোলন করছি, রাজনীতি করছি যে কারণে, আমাদের এই ছেলেরা আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে। লক্ষ্য তো একটাই, আমরা একটা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা চাই। আমরা আমাদের অধিকারগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রের শক্তি ব্যবহার করে অধিকার কেড়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এই শক্তিকে সরিয়ে আমরা সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এ জন্যই এত ত্যাগ, এত ব্যথা, এত বেদনা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটি ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট শক্তি আমাদের সব অর্জন ধ্বংস করে দিয়ে মানুষের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, সেগুলো নষ্ট করে দিয়ে আমাদের স্বপ্নগুলো চুরমার করে দিয়েছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, যে সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকে, তাকে টিকে থাকার জন্য কৌশল নিতে হয়। জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকে না। যেহেতু তারা জনবিচ্ছিন্ন থাকে, সে কারণে অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন-হত্যা-গুম পর্যন্ত তাদের করতে হয়।

গুম-খুনের জবাব সরকারকে দিতে হবে বলে হুশিয়ারি দেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, আমাদের দলের নেতাকর্মী গুম হয়েছে ৫ শতাধিক। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন যেগুলো আছে অধিকার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬০১ জন গুম হয়েছে, ২৮১৭ জন বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়েছে এবং গুলি করে হত্যা হয়েছে অনেকগুলো। এর জবাব আওয়ামী লীগকেই দিতে হবে। যারা গুম হয়ে গেছেন, নিখোঁজ হয়ে গেছেন, তাদের পরিবারের কাছে জবাব দিতে হবে। গোটা জাতির কাছে তাদের জবাব দিতে হবে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, স্বাধীনতার উদযাপনের মিডিয়া উপকমিটির সদস্য আতিকুর রহমান রুম্মন।

অনুষ্ঠানে ‘নিখোঁজ’ ছাত্রদলের নেতা নুরুজ্জামান জনি, জাকির হোসেন, তরিকুল ইসলাম তারা, মাহবুবুর রহমান বাপ্পী, তারিকুল ইসলাম ঝন্টুসহ বেশ কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের হাতে বিএনপির পক্ষ থেকে ঈদ উপহার তুলে দেন ফখরুল। গুম ও খুন হওয়া ৮৭৭জন পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে ঈদের এই উপহার পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আয়োজকরা জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, অনিন্দ্র্য ইসলাম অমিত, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, এসএম জাহাঙ্গীর, কামরুজ্জামান দুলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, ইয়াসীন আলী, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।