দৌলতখান (ভোলা) প্রতিনিধি : মহামারী করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিকের আশায় লকডাউনের পর লকডাউন। তবে কবে স্বাভাবিক হবে করোনা পরিস্থিতি এটা সকলের অজানা। তাই বলে কি এর শেষ দেখার জন সবকিছু বন্ধ থাকবে? করোনা একটি বায়ুবাহিত রোগ তাই সকলকে মাস্ক পরিধান করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে মোতাবেক সকল কিছু চলছে শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে উঠছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের এই অমনোযোগী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, করোনা-পূর্ব সময় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে আসতো, খেলাধুলা করতো এবং ঠিকমতো পড়াশোনা করতো। কিন্তু দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় তারা এখন আর স্কুলে আসতে পারে না, খেলাধুলা করতে পারে না। নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ না করায় ঠিকমতো পড়াশোনা করছে না। ক্লাস চলাকালীন নিয়মিত পাঠদান হত। এখন তা হচ্ছে না। তাই শিক্ষার্থীরা এখন পড়াশোনায় একটু অমনোযোগী। তবে স্কুল খুললে আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

আব্দুল্লাহ হাইস্কুলে পড়ে। সে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। স্কুল বন্ধ থাকায় ক্লাস করা হচ্ছে না, টিচারের কাছে গিয়ে প্রাইভেট পড়া হচ্ছে না। এমনকি বাসায় তেমন পড়তে মন চায় না। আব্দুল্লাহর মা জানান, স্কুল বন্ধ তাই ছেলে বাসায় ঠিকমতো পড়ে না। শুনেছি ইন্টারনেটে ক্লাস হয় কিন্তু আমগোতো আর টিভি বা টাচ মোবাইল নাই তাই সে পড়তে পারছে না। কি করার স্কুল খুললে পড়বে।

এ ছাড়াও অধিকাংশ অভিভাবকের অভিযোগ- স্কুল বন্ধ, অনলাইনে ক্লাস করতে হয় বাচ্চাদের এতে মোবাইলের প্রতি তাদের আকর্ষণ বেড়ে চলছে। ক্লাস করা ছাড়াও বিভিন্ন গেম খেলছে। বর্তমানে বাংলাদেশ দুইটি জনপ্রিয় অনলাইন গেম পাবজি ও ফ্রি ফায়ার। এই দুটি গেমে আসক্তি দিন দিন বাড়ছে শিক্ষার্থীদের। তবে এটা তাদের পড়াশোনার জন্য হুমকি স্বরূপ। তাই সবাই চায় যাতে অতি তাড়াতাড়ি স্কুল খোলা হয়।