মধ্যরাতে পেট্রলপাম্পগুলোর সামনে জ্বালানি তেল কেনার জন্য মোটরসাইকেল চালকদের ভিড়। উপরে বামে বগুড়া জেলার একটি পেট্রলপাম্প, ডানে রংপুর জেলার একটি পেট্রলপাম্প। নিচে বামে সাতক্ষীরা জেলার একটি পেট্রলপাম্প, নিচে ডানে রাজধানীর উত্তরা আবদুল্লাপুরের একটি পেট্রলপাম্প। ছবি: সংগৃহীত

খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। দাম বৃদ্ধির হার ৪২ থেকে ৫০ শতাংশ। শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই ভোক্তা পর্যায়ে এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হয়েছে।

ডিজেল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ৮০ টাকা থেকে করা হয়েছে ১১৪ টাকা। দাম বৃদ্ধির হার প্রায় ৪২ শতাংশ। পেট্রল প্রতি লিটার ৮৬ টাকা থেকে করা হয়েছে ১৩০ টাকা। অকটেনের দাম বেড়েছে ৮৯ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা। অর্থাৎ পেট্রল ও অকটেনের ক্ষেত্রে এই মূল্য বৃদ্ধির হার ৫০ শতাংশেরও বেশি।

এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর খবর জানার সাথে সাথে মধ্যরাতের আগেই তেল কিনতে রাজধানীসহ দেশের অনেক জেলার পেট্রল পাম্পগুলোর সামনে গাড়ি এবং মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। কোথাও কোথাও আবার দাম বৃদ্ধির খবর জানার সাথে সাথে অনেক পেট্রল পাম্প বন্ধও করে দেয়া হয়।


রাজধানীর একটি পেট্রলপাম্প। দাম বৃদ্ধির খবর জানার সাথে সাথেই রাত ১০টার আগেই এই পেট্রলপাম্পটি বন্ধ করে দেয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত 

শুক্রবার রাত ১০টায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্য বৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন গত ছয় মাসে (ফেব্রুয়ারি ২২ থেকে জুলাই ২০২২ পর্যন্ত) জ্বালানি তেল বিক্রয়ে ৮০১৪.৫১ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দামের পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ভারতে তেল পাচারের ঝুঁকি কমাতেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম প্রতিবেশী ঐ দেশের সম-পর্যায়ে আনা প্রয়োজন ছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে ভারত ২২মে ২০২২ তারিখ থেকে কলকাতায় ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ৯২.৭৬ রুপি এবং পেট্রোল লিটার প্রতি ১০৬.০৩ রুপি নির্ধারণ করেছে যা বাংলাদেশী টাকায় যথাক্রমে ১১৪.০৯ টাকা এবং ১৩০.৪২ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনেকটা নিরুপায় হয়েই কিছুটা এডজাস্টমেন্টে যেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্বিবেচনা করা হবে।

এদিকে, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব-এর সহ-সভাপতি শামসুল আলম বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম রাতারাতি এক দফায় এতটা বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনে “ভয়াবহ দুর্দশা” নেমে আসবে। তিনি বলেন, কৃষি, পরিবহণসহ সব খাতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।