এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রথম ধাপের নির্বাচনের পর পরবর্তি ধাপের নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। লকডাউন তুলে দেয়ার পর নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট গ্রহণ করার সীদ্ধান্ত দেয়ার পর আবারো উজ্জীবিত হয়েছে মিরসরাই উপজেলার আওয়ামী রাজনীতি অঙ্গন।

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর পরবর্তি ধাপের তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় জোর লবিংয়ের পাশাপাশি সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মিরসরাইয়ের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মন জয়ের প্রতিযোগীতা চলছে।

বিএনপি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সীদ্ধান্ত নিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় প্রার্থী মনোনয়নে কিছুটা বেকায়দায় পড়তে হবে দলে নীতি নির্ধারকদের।

তবে ১৬ ইউনিয়নের বেশিরভাগ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যানরা আবারও দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার পাশাপাশি দলীয় মনোনয়নের আশায় দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নেতাদের সাথে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

১৬ ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে। তারা হলেন-

১ নং করেরহাট ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত হোসেন নয়ন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান গিয়াস উদ্দিন জসীম, সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এস এম আবুল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ কামরুল হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা সালাহ উদ্দিন। তবে দলীয়র মনোনয়নে এনায়েত হোসেন নয়ন, সুলতান গিয়াস উদ্দিন জসীম ও কামরুল হোসেনের মধ্যে মূল লড়াই হতে পারে।

২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন হারুন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সোনা মিয়া সওদাগর, সাবেক চেয়ারম্যান ইফতেখার উদ্দিন ভূঁইয়া পিন্টু, সাবেক ছাত্রনেতা হাসান মাহমুদ হেঞ্জু, জয়নাল আবেদীন রানা।

৩ নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান মকসুদ আহম্মদ চৌধুরী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মাস্টার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ইমন, সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি নিজাম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক নুর মোহাম্মদ সেলিম। এক্ষেত্রে করোনাকালে অসহায় মানুষের পাশে থেকে এগিয়ে আছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মাষ্টার।

৪ নং ধুম ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি জহির উদ্দিন ইরান।

৫ নং ওচমানপুর ইউনিয়ন বর্তমান মফিজুল হক, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজ্বী শাহ আলম, লেয়াকত আলী, আশরাফ উল্লাহ।

৬নং ইছাখালী ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল আলম।

৭ নং কাটাছরা ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী হুমায়ুন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজ্বী আবুল বশর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন মনছুর, আওয়ামী লীগ নেতা খোন্দকার শফি, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার সবুজ।

৮নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান বিল্পব, সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খোকা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ফরিদ আহম্মদ আরজু, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক কামরুল আহসান হাবিব, এরাদুল হক নিজামী ভুট্টো।

৯ নং মিরসরাই সদর ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এমরান উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ দিদার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুল আলম দিদার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।

১০ নং মিঠানালা ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, সাবেক চেয়ারম্যান তাহের ভূঁইয়া, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজ্বী জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ মাষ্টার।

১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাস্টার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিহির কান্তি নাথ, সাবেক চেয়ারম্যান শাহীনুল কাদের চৌধুরী, সভাপতি তোফায়েল উল্ল্যা চৌধুরী নাজমুল, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নুরুল গনি, উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক আরিফ মঈনুদ্দীন, মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া। তবে বিগত ৫ বছরে রাস্তাঘাটসহ ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করার পাশাপাশি করোনাকালে মাঠে থাকার কারণে বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর মাষ্টার এগিয়ে রয়েছেন।

১২ নং খৈয়াছড়া ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবের আহম্মদ নিজামী, সাবেক সভাপতি সরোয়ার উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক জুনু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালা উদ্দিন আহম্মদ।

১৩ নং মায়ানী ইউনিয়ন কবির আহম্মদ নিজামী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজ্বী মামুন।

১৪ নং হাইতকান্দি ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সম্পাদক বা অন্য কেউ মনোনয়ন পেতে পারেন।

১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ আবারও দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে অনেকটা নিশ্চিত।

১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়ন বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল করিমের নাম শুনা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের প্রাচীন ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকতে পারে। দল তো সবাইকে মনোনয়ন দিতে পারবে না। দলীয় মনোনয়ন পাবেন একজন। সেক্ষেত্রে আমাদের অভিবাবক, সাবেক সফল মন্ত্রী প্রিয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ইউনিয়নে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে।