মিজানুর রহমান মিজান, রংপুর অফিস : রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আগুনে ঝলসে (দগ্ধ) ২৬ জন রুগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে প্রচন্ড শীতে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছেন ১০ জন ও চুলায় রান্না এবং গরম পানি বহন করতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছে ১৬ জন। তাদের নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে অগ্নিগ্ধ রোগী প্রচন্ড শীত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবারে একটু বেশি। শীত থেকে রক্ষা পেতে আগুন পোহাতে গিয়ে তাঁরা দগ্ধ হন তারা। বিভিন্ন স্থানে প্রচন্ড শীতে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছেন ১০ জন ও চুলায় রান্না ও গরম পানি বহন করতে গিয়ে ১৬ জন দগ্ধ হয়। তাদের নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান চিকিৎসাক। যারা দগ্ধ রুগী চিকিৎসাধীন তাঁদের সকলের শরীর ১০ থেকে ৩০ শতাংশ দগ্ধ পুড়ে গেছে। গত ১৫ দিন থেকে তাদের হচ্ছে।

চিকিৎসা নিতে আসা নাগেশ্বরী উপজেলায় শীতে আগুন পোহাতে দগ্ধ হয়ে ভর্তি হয়েছেন ফাতেমা বেগম (৬২)। হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ছেলে নজরুল ইসলাম বলেন, গতকাল সকালে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে গিয়ে অসাবধানবশত পরনের কাপড়ে আগুন লেগে যায়। শরীরে নিচের দিকের অংশ প্রায় ২০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা দিনাজপুরের খানসামা এলাকার কিশোরী রশিদা খাতুন (১৪) আট দিন আগে বাড়ির উঠানে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়। মেয়ের সঙ্গে এসেছেন মা নাসিমা। তিনি অগ্নিদগ্ধ মেয়ের কষ্টে মুখ লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদছেন। মেয়েকে সান্তনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানান এই মা।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় সদরের ধাপেরহাট এলাকার বাসিন্দা বাবলি বেগম (৪৫)। কনকনে শীতে বাড়ির উঠানে গতকাল শুক্রবার সকালে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে গিয়ে পরনের কাপড়ে আগুন লেগে যায়। স্থানীয়ভাবে শরীরের আগুন নেভানো হলেও ততক্ষণে শরীরের কিছু অংশ আগুনে দগ্ধ হয়। তাঁর কোমরের নিচ থেকে ১৫ ভাগ দগ্ধ হয়েছে।

হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মুন্নী আক্তার (১৩) শীত থেকে উষ্ণতা পেতে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে গিয়ে অসাবধানবশত জামায় আগুন লেগে কোমরের নিচের অংশ আগুনে দগ্ধ হয়। মুন্নি আক্তারের মা বলেন মেয়ের কষ্টে আমারও খুব কষ্ট হচ্ছে।

হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক আবদুল হামিদ বলেন,শীতের শুরুতে রংপুর অঞ্চলে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে গিয়ে মানুষ অগ্নিদগ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মারা যান। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে শীতের সময় গ্রামপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক কাজ করা উচিত। গত বছরে শীতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭ জন তবে দগ্ধ রোগীর সংখ্যা ছিল ৭০ জন। এরই মধ্যে ১ জানুয়ারি ২০২৩ ইং রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আফরোজ বেগম (৪০) নামের একজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন।