তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : তেঁতুলিয়া বনবিটের ইকোপার্কে পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কুকুরের কামড়ে চিত্রা হরিণের মৃত্যু ঘটেছে।

জানা যায়, জেলা সামাজিক বন বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত তেঁতুলিয়া বনবিটের ইকোপার্কে সাড়ে দশ একর জায়গা জুড়ে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করে ২০১১ সালে নানা ধরণের প্রাণি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়।

এই ইকোপার্কে শুরুতে দিনাজপুর বন বিভাগ থেকে প্রথমে একজোড়া হরিণ আনা হয়। কিন্তু ভারসাম্যহীন পরিবেশ আর শীতের তীব্রতা এবং অপর্যাপ্ত পরিচর্চা আর নিরাপত্তা এবং খাদ্য অভাব বিরাজমান থাকায় তখন নারী হরিণটি বাচ্চা প্রসব করলেও হরিণের শাবকটি মারা যায় এবং মা হরিণটিকে অসুস্থ অবস্থায় দিনাজপুর রামসাগর ইকোপার্কে চিকিৎসার জন্য পুনরায় পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে আবার একজোড়া পুরুষ হরিণ আনা হয়। তিনটি পুরুষ হরিণের মধ্যে গত শনিবার সকালে হরিণের খামারে পাঁচটি কুকুরের একটি দল ঢুকে একটি হরিণকে কামড়ে আহত করে। এ সময় উপস্থিত নিরাপত্তা রক্ষীদের তৎপরতায় কুকুরগুলো হরিণটিকে না খেয়ে পালিয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ কয়েক ঘন্টা পর তেঁতুলিয়া বনবিট অফিসার তেঁতুলিয়া প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাকে নিয়ে গেলে তিনি হরিণটি মৃত ঘোষণা করে মাটিতে পুতে ফেলার নির্দেশ দেন। বর্তমানে ইকোপার্কে দু’টি হরিণ জীবীত আছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, পঞ্চগড় জেলার একমাত্র ইকোপার্কটিতে হরিণ সহ অন্যান্য প্রাণী যেমন বানর, মুয়ূর ও খোরগোশ দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে শিশু-কিশোর নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক দেখতে আসেন। কিন্তু সরকারের উদ্যোগের অভাবে আর অবহেলায় ইকোপার্কটির প্রাণিগুলো মারা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে বনবিট কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ইকোপার্কে প্রাণিগুলো ভালই ছিল। কিন্তু শনিবার ভোরে কয়েকটি কুকুর খামারটির মধ্যে ঢুকে পড়লে একটি হরিণ আতংকে শারীরিক অসুস্থ হয়ে মারা যায়।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (ভারঃ), ডাঃ রতন কুমার ঘোষ মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, ইকোপার্কে আহত হরিণটির খবর পেয়ে চিকিৎসার জন্য ছুটে যাই। কিন্তু কুকুরের কামড়ে হরিণটির শরীরের একাধিক জায়গায় মাংস ছিঁড়ে নেয় এবং শ্বাসনালীতে ক্ষত সৃষ্টি হলে হার্ট এটাকে মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া পোস্ট মর্টমে হার্ট এটাকের লক্ষণ পাওয়া গেছে।