তাপমাত্রা বাড়লেও শীতের প্রকোপ কমেনি : ঠান্ডাজনিত রোগে শিশুরা আক্রান্ত    

এম এ বাসেত, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : আজ সোমবার তেঁতুলিয়ায় সারাদিন সূর্যের দেখা মিলেনি। গত সপ্তাহের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীতের প্রকোপ কমেনি। তীব্র ঠান্ডায় শিশু সহ বয়-বৃদ্ধরা নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

গত ১৪ জানুয়ারী তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেন আবহাওয়া অফিস। এরপর গত দু’দিনে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে গত সপ্তাহ ধরে মৃদু ও মাঝারি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রার কিছুটা পরিবর্তন হলেও কনকনে ঠান্ডা হাঁড় কাঁপানো শীতের প্রকৌপ এখনো কমেনি। শীতের তীব্রতা বাড়ায় ছিন্নমূল গরীব-দুখী মানুষ শীত নিবারনের জন্য খড়-কুটা জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।

এদিকে গরীব-দুখী সহ মধ্যবৃত্ত পরিবারের লোকজন শীত নিবারণের কাপড় কিনতে পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ীদের দোকানে ভিড় করছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে সরকারিভাবে তেঁতুলিয়ায় ১ম দফায় ৩ হাজার ৭শত পিজ কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং ইতোমধ্যে ৭টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু তেঁতুলিয়ায় শীতার্ত মানুষের তুলনায় খুব কম শীতবস্ত্র বরাদ্দ এসেছে। অতিরিক্ত শীতবস্ত্র চেয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবেদন করেছে।

এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ার সংগে সংগে সর্দি, কাঁশি-জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া সহ নানান রোগে শিশু-কিশোর সহ আবাল-বৃদ্ধরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগের সূত্রে জানা যায় চলতি মাসে ডায়ারিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত প্রায় ৫০ জন মা ও শিশু আন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে।

এ ছাড়া পাথর শ্রমিক, কিশোর, বৃদ্ধ-বণিতা ৫শত ৫৯ জন রোগী ঠান্ডা জনিত রোগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। পরিসংখ্যানের সূত্রানুযায়ী শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে হাসপাতালের বহিঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২শত জন এবং জরুরী বিভাবে প্রায় ৪০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছে। এদের মধ্যে শীতজনিত রোগে মা ও শিশুরোগীর সংখ্যা বেশি।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আবুল কাশেম বলেন; হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় মেডিকেল অফিসার ও জনবল সংকট থাকার পরও রোগীদের যথাসাধ্য চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ ও বহিঃবিভাগে কোন ওষুধ সংকট নাই। কিন্তু শিশু-বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত মা ও শিশু রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে কিছুটা ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি তেঁতুলিয়া হাসপাতালে একজন মা ও শিশু-বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ দানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু-দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।