এম এ বাসেত, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শীতের প্রকৌপ বৃদ্ধিতে শীতজনিত নানান রোগে শিশু সহ বয়-বৃদ্ধরা আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার অফিস সূত্রে জানা যায় গত ২৪ ঘন্টায় তেঁতুলিয়ায় ১১.২ ডিঃ সেঃ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে মৃদু শৈত প্রবাহের পাশাপাশি হিমেল বাতাস অব্যাহত থাকায় কনকনে ঠান্ডা হাঁড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, চলতি মাসে আরও দুটি তীব্র শৈত প্রবাহ এ অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যাবার আশংকা আছে। ফলে চলতি সপ্তাহে শীতের প্রকৌপ আরও বাড়তে পারে। এদিকে দিনের মধ্যভাগে দু’এক ঘন্টার জন্য সূর্য্যরে মুখ দেখা গেলেও দুপুর গড়ার সংগে সংগে ঘনকুয়াশায় চারদিক ঢাকা পড়ছে।

শীতের তীব্রতা বাড়ায় ছিন্নমূল গরীব-দুখী মানুষ শীত নিবারনের জন্য খড়-কুটা জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।

এদিকে নিত্যপণ্যের দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির কারণে আয়-ব্যয়ের সংঘতি মেলাতে না পারায় মধ্যবৃত্ত পরিবারের লোকজন তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছে। শীত নিবারণের জন্য অনেককে পুরাতন শীতের কাপড় ব্যবসায়ীদের দোকানে কাপড় নিতে দেখা গেছে। তীব্র ঠান্ডা ও শীতজনিত কারণে আবাল-বৃদ্ধ বণিতা সহ শিশু-কিশোররা সর্দি, কাঁশি-জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া সহ নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগের সূত্র মতে ২০২৩ সালের চলতি মাসে প্রথম সপ্তাহে ডায়ারিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত ১২ জন মা ও শিশু আন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে।

এ ছাড়া ডিসেম্বর মাসে পাথর শ্রমিক, কিশোর, বৃদ্ধ-বণিতা ৫শত ৫৯ জন রোগী ঠান্ডা জনিত রোগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।

পরিসংখ্যানের সূত্রানুযায়ী শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে হাসপাতালের বহিঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২শত জন এবং জরুরী বিভাবে প্রায় ৪০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছে। এদের মধ্যে শীতজনিত রোগে মা ও শিশুরোগীর সংখ্যা বেশি।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আবুল কাশেম বলেন; হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় মেডিকেল অফিসার ও জনবল সংকট থাকার পরও রোগীদের যথাসাধ্য চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ ও বহিঃবিভাগে কোন ওষুধ সংকট নাই। কিন্তু শিশু-বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত মা ও শিশু রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে কিছুটা ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি তেঁতুলিয়া হাসপাতালে একজন মা ও শিশু-বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ দানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু-দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।