মহানন্দা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে দেখা কাঞ্চনজঙ্ঘার ক্ষণে-ক্ষণে বদলানো রূপ আর সমতল ভূমির চা-বাগান। ছবি: এম এ বাসেত

এম এ বাসেত, তেঁতুলিয়া প্রতিনিধি : কাঞ্চনজঙ্ঘা। পর্বত শৃঙ্গ। দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের  তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে এর রূপ দেখা যায়। পর্যটকদের কাছে এ আকর্ষণীয় ভ্রমণ স্থান।

তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাকবাংলোর সামনে মহানন্দা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে সকাল-সন্ধ্যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার ক্ষণে-ক্ষণে বদলানো রূপ দেখে বিমোহিত হন পর্যটকরা। সকালে সূর্যের আলো যত বাড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ ক্ষণে-ক্ষণে তত বদলায়। কখনো সোনালি আবার কখনো ধবধবে সাদা বরফ আবৃত। আবার সূর্যের রক্তিম আভা পর্বত শৃঙ্গের উপর পড়লে সেই দৃশ্যপট হয়ে যায় অন্যরকম।

এভাবে হিমালয় ও দার্জিলিং পর্বতমালার উপরে সূর্যের আলোয় নানান রঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা হাতছানি দেয়।

আকাশ ভাল থাকলে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত প্রত্যেক ঋতুতেই কমবেশি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। তবে শরৎ ও হেমন্তকালে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ বেশি স্পষ্ট দেখা যায়।

যেভাবে যাওয়া যায় : ঢাকা গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে হানিফ ও শ্যামলী পরিবহনে সরাসরি তেঁতুলিয়া যাওয়া যায়। ভাড়া পড়বে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা।

এ ছাড়া কমলাপুর থেকে ট্রেনে পঞ্চগড় গিয়ে সেখান থেকে লোকাল বাসে তেঁতুলিয়া। তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারে বাস থেকে নেমে ভ্যান ও অটোবাইকযোগে ডাকবাংলো মহানন্দা নদীর তীরে যাওয়া যায়।

কমলাপুর থেকে দু’টি ট্রেন যায় পঞ্চগড়। রাত ৮টায় দ্রুতযান ও রাত ১০.৩০টায় একতা। ট্রেনের ভাড়া শ্রেণীভেদে ৫৫০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা। পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়া লোকাল বাস ভাড়া ৫০ টাকা, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ৭০ টাকা

তেঁতুলিয়ায় রাত যাপনের জন্য তেঁতুলিয়া বাজারের আশপাশে বেশকিছু আবাসিক হোটেল আছে। এসব আবাসিক হোটেলের ভাড়া মান অনুযায়ী প্রতিদিন ৬০০ থেকে ১৫শ’ টাকা। আর সরকারি ডাকবাংলোতে রাত কাটাতে চাইলে আপনাকে গুণতে ৮০০ থেকে ১৫শ’ টাকা। তবে ডাকবাংলোতে থাকতে হলে কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে ইউএনও অফিস থেকে রুম বুকিং নিতে হবে।

তেঁতুলিয়ায় খাবারের জন্য প্রতিদিন আপনার খরচ হতে পারে ৩০০-৪০০ টাকা।