আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) : চুল দাঁড়ি পাকা প্রবীণ এক খেলোয়াড় মাঠে নেমেছেন। সামাল দিচ্ছেন মাঠের রক্ষণভাগ। তার ছেলেও একই দলের গোল রক্ষক; এমনকি সেই ছেলের ছেলে (নাতি) রয়েছেন এই দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়।

ফুটবল মাঠে ভাই–ভাই কিংবা পিতা-পুত্র একসাথে খেলার নমুনা রয়েছে অগণিত। কিন্তু একই দলে তিন প্রজন্মের (পিতা, পুত্রের, নাতি) ফুটবল খেলোয়ার খুব কমই নজরে পরে। এমনি ব্যতিক্রমী এই খেলা খেলতে পেরে উচ্ছসিত তারা।

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তাড়াইল মাঠে প্রতিযোগিতামূলক এই খেলায় তিন প্রজন্মের ফুটবল কারিশমা উপভোগ করেন শত শত দর্শক। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে দর্শকের উপস্থিতি ছিল কানায় কানায়।

ফুটবল ঐতিহ্যবাহী এই পরিবারের বয়োজৈষ্ঠ খন্দকার মাসুম আলী বাচ্চু বয়স (৭0), তার ছেলে খন্দকার মোস্তাক আলী (৪৫) ও তার পুত্র খন্দকার শরিফুর রহমান (১৬) একই টিমে খেলে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।

খন্দকার মোস্তাক আলী বলেন, আমি ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি আব্বা ফুটবল খেলার সাথে জড়িত। তার মুখে শুনেছি তিনিও ছোট বেলা থেকে ফুটবল খেলা পছন্দ করতেন। আমিও ফুটবলের মিশে যাই। সেই কৈশোর থেকেই স্কুল টিম, উপজেলা ফুটবল টিম জেলা টিম এমনকি ঢাকার ক্লাবেও খেলেছি। এরপর বিদেশে পাড়ি জমাই। দেশে এসে ব্যবসা করছি। এখনো নিয়মিত ফুটবল প্যকটিসে থাকি।আমার ছেলে খন্দকার শরিফুর রহমানও ভালো ফুটবল খেলে।

খন্দকার মাসুম আলী বাচ্চু বলেন, এখন তো আমাদের সময় শেষ। আর আগের মতো দম নেই। ফুটবল খেলার নেশা রক্তে মিশে গেছে। ছেলে নাতিদের অনুরোধে মাঠে নেমে অল্প সময় খেলেছি। এখনো উপভোগ করি। খুবই আনন্দ পেয়েছি।

স্থানীয় বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু বলেন, এই ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ফুটবল উদ্মাদনা তাড়াইল গ্রামে। এই এলাকা থেকে অনেক ফুটবলারের নাম যশ দেশজুড়ে। আর খন্দকার মোস্তাকদের পরিবার ফুটবল প্রেমী। বংশপরস্মরায় তারা ফুটবলের সাথে জড়িত।


ঘিওরে বঙ্গমাতা ফুটবল ফাইনাল

ঘিওরের বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পর্যায়ে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকেলে বানিয়াজুরী হাইস্কুল মাঠে টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বের খেলায় বানিয়াজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২-১ গোলে কাকজোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।

বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টুর সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘিওর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিব, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার পারভিন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ বাবুল মিয়া, শিক্ষক আশিকুর রহমান, শামসুন নাহার, শারমীন সুলতানা প্রমুখ।