লুৎফর রহমান, তাড়াশ : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে অবৈধভাবে ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খননের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার ৮ জানুয়ারি দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সদর ইউনিয়নের দক্ষিন মথুরাপুর, মাধবপুর, বোয়ালিয়া, শ্রীকৃষ্ণপুর চকগপিনাথপুর গ্রামের কয়েক শ’ কৃষকের আয়োজনে ওই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, দেড় দশকে তাড়াশ উপজেলায় তিন ফসলী জমিতে পুকুর খনন হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার। এতে করে উপজেলায় ফসলী জমি কমেছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর। তারপরও থামানো যায়নি সর্বনাশা পুকুর খনন। আর সাম্প্রতিক সময়ে চলমান পুকুর খননের মাটি ড্রাম ট্রাকে পরিবহন করতে গিয়ে সে মাটি সড়কে ফেলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাকা সড়কের বারোটা বাজালেও দেখার কেউ নেই! প্রশাসন নিরব।

জানা গেছে, বর্তমানে তাড়াশ উপজেলার তাড়াশ পৌরসভা, তালম, বারুহাস, সগুনা, মাগুড়াবিনোদ, নওগাঁ, তাড়াশ সদর, মাধাইনগর ও দেশিগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলী মাঠে পুকুর কাটার মহাৎসব চলছে। গত দেড় দশকে তিন ফসলী উর্ব্বর জমিতে পুকুর কাটার সে মিছিল রোধ করা সম্ভব হয়নি। উপরন্ত গত নভেম্বর থেকে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় আড়াই থেকে তিন শতাধিক পুকুর খনন অবহ্যত রয়েছে। আর এ সকল পুকুরে মাটি বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। যা ড্রামট্রাকে পরিবহন করে বিভিন্ন স্থানে পৌছে দেওয়া হচ্ছে। এর সাথে জড়িত রয়েছেন উপজেলার প্রায় শতাধিক এক্সেভেটর মেশিনের মালিক। মূলতঃ তাঁরাই বিভিন্ন ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে পুকুর খনন করে আসছেন এমনটি জানান, উপজেলা কৃষক বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক মীর শহিদুল ইসলাম শহিদ।

পুকুর খনন বন্ধে সমাবেশ কৃষকদের ন্যায্য দাবীর সাথে একাত্ততা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো: আনোয়ার হোসেন খাঁন।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন তাড়াশ পৌর আওয়ামীলীগের আহবায়ক মো: আব্দুর রাজ্জাক, সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: রেজাউল করিম,ভুক্তভোগী কৃষক মোজহারুল ইসলাম, শামসুল হক, ছাবেদ আলী,আকবর হোসেন প্রমূখ।

সমাবেশ শেষে পুকুর খনন বন্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।