লুৎফর রহমান, তাড়াশ : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের বিলের ফাইল প্রস্তুত করার কথা বলে প্রতারনা করে কয়েক দফায় ডিস্ট্রিক ফ্যাসিলিটেটর , উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাম ভাঙ্গিয়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সগুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টু ও তৎকালীন সচিব বাসুদেব ঘোষের বিরুদ্ধে।

নিরুপায় হয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি মোঃ কাইয়ুম আলী সেখ ন্যায় বিচারের স্বার্থে গত (৪ জানুয়ারি) বুধবার সিরাজগঞ্জ আদালতে সগুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টু ও তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব বাসুদেব ঘোষের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিরাজগঞ্জ জেলা জজকোর্টের আইনজীবি মোঃ কামাল পারভেজ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের ৩১ লাখ ৩২ হাজার ৪৬০ টাকার বিপরীতে ১৪টি প্রকল্পের নিমিত্তে ‘মিম এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি ঠিকাদারী কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্যে মনোনীত হন।

কাজগুলোর মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকায় ব্যায়ে লালুয়া মাঝিড়া কালকাতলা পানি নিস্কাশষনের জন্য ইউড্রেন স্থাপন।
১ লাখ টাকা ব্যয়ে চর কুশাবাড়ী ওমরের মোড় পানি নিস্কাশনের জন্য ইউড্রেন নির্মাণ। ১ লাখ টাকা ব্যয়ে গবাদি পশুর কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন। ১ লাখ টাকা ব্যয়ে কাটাবাড়ী মনির মেম্বারের বাড়ীর সামনে নদী নৌকাঘাট বাঁধাইকরণ। ১ লাখ টাকা ব্যয়ে ইশ্বরপুর খালেকের দোকান থেকে মহরের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা এইচবিএস সেলিংকরণ। ৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা ব্যয়ে সগুনা আলাউদ্দিনের বাড়ীর সামনে পানি নিস্কাশনের জন্য ইউড্রেন ও কুন্দইল পাকা রাস্তা থেকে সোহেলের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় এইচবিএস সেলিংকরণ। ২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে লাখ টাকা ব্যয়ে ধাপতেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ জোড়া, মাকোরশন জহির উদ্দিন কারিগরি স্কুলের ১৫ জোড়া ফাইবার পিভিসি বেঞ্চ সরবরাহ। ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে কোভিড-১৯ উপকরণ সরবরাহ। ১ লাখ টাকা ব্যয়ে নয়টি কমিউনিটির নলকুপ স্থাপন। ২ লাখ টাকা ব্যয়ে কুন্দইল বাজারে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন। ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে সগুনা ইউনিয়নের প্রতিবন্ধিদের জন্য ২৫টি হুইল চেয়ার সরবরাহ। ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ইক্সকিউটিভ চেয়ার ১টি, ২৩টি টেবিল ও ১০ জোড়া করে ফাইল, পিভিসি। ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে কুন্দইল ব্রিজ থেকে মামুনের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা বিএফসিকরণ।

এরমধ্যে আংশিক কাজ করা ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এক্সিকিউটিভ চেয়ার ১টি, ২৩টি টেবিল ও ১০ জোড়া করে ফাইল, পিভিসি বেঞ্চ বরাদ্দ ও ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে কুন্দইল ব্রিজ থেকে মামুনের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা বিএফসিকরণ কাজ।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১২টি প্রকল্পের কাজ শতভাগ বাস্তবায়ন করে সগুনা ইউনিয়ন পরিষদ বরাবর তাদের প্রাপ্য ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৩৩৮ টাকার বিলের জন্য আবেদন করলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিল প্রদান না করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য নানা তালবাহানা করতে থাকে এবং ডিস্ট্রিক ফ্যাসিলিটেটর (ডিএফ), উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা প্রকৌশলীর নাম ভাগিয়ে বিলের ফাইল প্রস্তুত করার কথা কয়েক দফায় ৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেন তৎকালীন অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব বাসুদেব ঘোষ।

এদিকে ঘুষ গ্রহণের পরও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির পাওনা বাকী ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৩৩৮ বিপরীতে ৯ লাখ টাকা ৫৭ হাজার ৭৩২ টাকা পরিশোধ করে।

বাকি ৮ লক্ষ ৯৩ হাজার ৬০৬ টাকা পরে পাওয়া যাবে বলে জানান ইউপি সচিব বাসুদেব ঘোষ।

এ বিষয়ে ইউপি সচিব বাসুদেব ঘোষ বলেন, বিল তৈরি করার আগেই আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে আমার নিজ কর্মস্থলে চলে আসি। এর বাহিরে কিছু বলতে পারব না।

সগুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টু বলেন, মূলতঃ ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রত্যেকটি কাজ শতভাগ না করায় নিয়ম মেনে তাঁদের বিল কর্তন করা হয়েছে। বিল কর্তনের জন্য মিথ্যা মামলা করেছে তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মেজবাউল করিম জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিতকল্পে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।