১০ ডিসেম্বর আ’লীগ নয়, বিএনপি পািলয়ে যাবে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়া আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে নেতারা বলেছেন, বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না। ১০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপি পািলয়ে পাকিস্তানে চলে যাবে।

শনিবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেডিয়াম মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চৌধুরী এমপি। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি বলেন, ১০ ডিসেম্বর নাকি শেখ হাসিনার পতন ঘটবে, আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাবে। খালেদা জিয়া হবে প্রধানমন্ত্রী, দেশে আসবে তারেক। আরে এরা তো পাগল। আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো রাজনৈতিক দল না। পালানোর দল বিএনপি। এরাই পালিয়ে পাকিস্তানে চলে যাবে।

তিনি বলেন, আমরাতো চাই তারেক আসুক। লন্ডনে বসে যথই আস্ফালন করুক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তার যাবৎ জীবন জেল হয়ে আছে। মানি লন্ডারিং মামলায় আরো সাত বছর। আসলেইতো দাল দালানে যাবে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় ওবায়দুল কাদের চৌধুরী এমপি বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক দল নয়, পাকিস্তানের এজেন্ট। এরা গণতন্ত্রকে হত্যা করে এখন আবার গণতন্ত্রের কথা বলছে। তাদের লম্প জম্প কোন কাজে আসবে না। এদেশে তত্ত্বাবধায়কের অধীনে আর কোনো নির্বাচন হবে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলন বিশেষ অতিথি ছিলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ অবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি । স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার। সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন মঈন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মনির হোসাইন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি আরো বলেন, আওয়ামী লীগকে চাইলেই নিশ্চিহ্ন করা যাবে না। এই আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ। কথায় কথায় মানবাধিকারের কথা বলেন বিএনপির নেতারা। আমি তাদের বলব, আগে নিজের মুখ আয়নায় দেখুন। জাতির পিতাকে স্বপরিবারে খুন করে আপনারাই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ করেছিলেন। মানবাধিকারের কথা বলতে আপনাদের লজ্জা হয় না? তিনি বলেন, বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকান্ডে যেমন মীর জাফর জড়িত ছিল, জিয়াউর রহমান তেমনি খন্দকার মোশতাকের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। যে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানিরা মারতে পারেনি। ফাঁসি দেওয়ার সাহস করেনি, সেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছেন জিয়াউর রহমান। ক্ষমতা পাওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করেছেন সেনাপতি জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাস্টারমাইন্ড।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় বিএনপির উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের এমপি আরো বলেন, এখনই শুরু হয়ে গেছে মনোনয়ন বাণিজ্য। কাকে কাকে মনোনয়ন দেবে, মনোনয়নের কথা বলে বস্তায় বস্তায় টাকা নিচ্ছে। তারেক রহমান বস্তায় বস্তায় টাকা সুইস ব্যাংকে পাঠিয়েছে। তাদের এই বাণিজ্যের বিরুদ্ধে খেলা হবে, খেলা হবে আন্দোলনে, খেলা হবে নির্বাচনে। তাদের লাল কার্ড দেখাবে জনগণ।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি বলেন, তত্ত¡াবধায়ক সরকারের ইতিহাস বড়ই তিক্ত। তারা দুই বছর ক্ষমতা আঁকড়ে থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও অন্যায়ভাবে জেল খাটিয়েছে। খালেদা তারেকও এর থেকে রেহাই পায়নি। তাদের মার খেয়ে তারেক হুইল চেয়ারে করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। সুতরাং ন্যাড়া একবারই বেলতলায় যায়। বারবার যায়না। এদেশের মাটিতে আর তত্ত¡বধায়ক সরকারের চিন্তা করা অলিক স্বপ্ন ছাড়া কিছুই না।

সম্মেলনের প্রধান বক্তা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেন, দেশের জনগণ বিএনপিকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছিল। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান বিদেশে পালাতক। আর খালেদা জিয়া দেশেই কারাভোগ করেছেন। এখন বিশেষ বিবেচনায় কারাগারের বাইরে আছেন। দুর্নীতি জায়েজ করতে তাঁরা নিজ দলের গঠনতন্ত্রেও পরিবর্তন এনেছেন। এমন দুর্নীতিগ্রস্ত দলের নেতাদের মুখে দুর্নীতিবিরোধী কথা হাস্যকর।

সম্মেলন শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরীকে পূনরায় সভাপতি এবং জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আল মামুন সরকারকে পূনরায় সাধারণ সম্পাদক, সাবেক পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিন আহমেদকে সিনিয়র সহ সভাপতি, হেলাল আহমেদকে সহ সভাপতি ও মাহবুবুল আলম মন্টুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।