আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ : ঢাকা আরিচা মহাসড়কে রুট পারমিট ছাড়াই চলছে যাত্রীবাহি যানবাহন। রোড পারমিট ছাড়া বা কতটি রোড পারমিট রয়েছে এধরণের কোন তথ্য নেই বিআরটিএসহ হাইওয়ে পুলিশের কাছে । বিভিন্ন কোম্পানীর নাম দিয়ে এসব যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে মহাসড়কে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও প্রতিযোগিতামূলক চলাচলের কারণে মহাসড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা।

জেলায় আইন শৃংখলা সভায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দুর্ঘটনারোধে রোড পারমিটের বাইরে যাতে কোন পরিবহন চলতে না পারেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে যানা গেছে, ঢাকা আরিচা মহাসড়কে গাবতলি, সায়েদাবাদ ও গুলিস্থান থেকে বিভিন্ন নামে মানিকগঞ্জ ও পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে গাবতলি থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত যানবাহনগুলো হচ্ছে ২১৬টি সেলফি পরিবহন, ৩২টি দ্রতগতি পদ্মা পরিবহন ও ৩০টি যাত্রীসেবা পরিবহন । চিটাগাং রোড় থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত ৭০টি নীলাচল পরিবহন। গুলিস্থান থেকে মানিকগঞ্জ ও পাটুরিয়া পর্যন্ত ৬০টি শুভযাত্রা এবং ১২টি এসি লিংক। পাটুরিয়া থেকে নবীনগর পর্যন্ত চলাচল করে ১৫ টি উনিশে পরিবহন। জেলার অভ্যন্তরীন রয়েছে দুইশর মতো স্বপ্ন পরিবহন।

এদিকে মহাসড়কে চলাচল করার জন্য আরডিসির সভায় রোড পারমিট দেয় পরিবহনকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সেলফি পরিবহনের রোড পারমিট রয়েছে ৬৫টি, নীলাচল পরিবহনের ৭০টি, শুভযাত্রার ৬০টি। বাকী অন্য কোন পরিবহনের রোড পারমিট নেই। রোড পারমিট ছাড়াই চলাচল করেছে সেলফি পরিবহনের দেড়শ উপরে যানবাহন, দ্রতগতির পদ্মা পরিবহনের ৪০টি, উনিশে পরিবহনের ১৫টি ও স্বপ্ন পরিবহনের দুইশ যানবাহন।

অপর দিকে বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যে সব যাত্রীবাহি যানবাহনে রোড পারমিট নেই তারা মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি , হাইওয়ে থানা ও ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে অবৈধ যানকে বৈধ করে নিচ্ছেন। তার পরেও বিভিন্ন সময় অভিযানে রোড পারমিট ও ফিটনেস না থাকায় মামলার স্বীকার হতে হয় তাদের।

পরিবহন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রোডপারমিট নেই সেই সব যানবাহন ডাম্পিং করার প্রয়োজন।

মানিকগঞ্জ বিআরটিএ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, তাদের কাছে সঠিক তথ্য নেই কতটি যাত্রীবাহি যানবাহন রোড পারমিট নিয়ে ঢাকা থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত চলাচল করে। ঢাকা আরডিসি আঞ্চলিক কমিটির অনুমোদন নিয়ে সেলফি পরিবহনের ৬৫টি যাত্রীবাহী বাস গাবতলি থেকে রাজবাড়ি পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি রয়েছে। নীলাচল পরিবহন চিটাগাং রোড থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত ৭০টি যাত্রীবাহি বাস চলাচল করার অনুমতি রয়েছে। শুভযাত্রা পরিবহনের কিছু যাত্রীবাহি বাসের অনুমতি থাকলেও অন্যসব পরিবহনের রোড পারমিট নেই। মাঝে মধ্যে রোডপারমিট গাড়ীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মানিকগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জানান, রোড পারমিট ছাড়া কি ভাবে মহাসড়কে গাড়ী চলে তার সঠিক জবাব তার জানা নেই। তিনি স্বীকার করেন ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ হয়ে পাটুরিয়া ঘাটে যেসব পরিবহনে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে তাদের অধিকাংশ পরিবহনে রোডপারমিট নেই। তিনি প্রশাসনের কাছে রোডপারমিট ও ফিটনেস বিহীন যানবাহন গুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দাবি করেন। উনিশে পরিবহন সম্পর্কে তিনি বলেন এই গাড়ী গুলো নতুন এসেছে। এখনো রোডপারমিট পায়নি।

সেলফি পরিবহনের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মোঃ জালাল উদ্দিন জানান, বর্তমানে তাদের গাড়ি গড়ে চলাচল করে ১৭০টি পরিবহন। তিনি দাবি করেন গাবতলি থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত তাদের ৬৫টি গাড়ীর রোডপারমিট রয়েছে। ঢাকা আঞ্চলিক আরডিসির আগামী সভায় বাকী গাড়ীগুলোর রোডপারমিট হয়ে যাবে।

নীলাচল পরিবহনের মানিকগঞ্জ ইনচার্জ চন্ডি চক্রবর্তী বলেন, তাদের চিটাগাং রোড থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত ৭০টি গাড়ীর রোডপারমিট রয়েছে। বর্তমানে গড়ে ৬০টি গাড়ী চলাচল করছে।

দ্রতগতির পদ্মা পরিবহনের মানিকগঞ্জ চেকিংম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, নবীনবরণ গাড়ীগুলো আধুনিক করে দ্রতগতির পদ্ম পরিবহনের নাম করণ করা হয়েছে। তাদের বর্তমানে ৩২টি গাড়ী চলাচল করছে। রোডপারমিট আছে কি না তা তার জানা নেই।

বরংগাইল হাইওয়ের ওসি মোঃ জাকির হোসেন ও মানিকগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক কে এম মিরাজ বলেন, তাদের অভিযান পরিচালনার সময় যদি কোন যানবাহনের রোড পারমিট না থাকে তবে সেই গাড়ীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পাটুরিয়া ঘাট থেকে ঢাকা পর্যন্ত বিভিন্ন নামে যে পরিবহন গুলো চলাচল করে সেই পরিবহনগুলো কতটির রোড পারমিট রয়েছে বা কতটির রোড পারমিট নেই এরকম তথ্য নেই এই দুই কর্মকর্তার কাছে।

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ জানান, রোড পারমিট ছাড়া যাত্রীবাহি গাড়ী রাস্তা নামানো কথা নয়। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে রোড পারমিটবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে আইন শৃংখলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক জানান বিভিন্ন পরিবহনের কয়টি গাড়ী আছে এবং কয়টির রোডপারমিট আছে তার সঠিক তথ্য প্রদানের জন্য মানিকগঞ্জ বিআরটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।