ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মিলগেট এলাকার দৃশ্য

শেখ আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর : সড়ক উন্নয়নগর্তে বৃষ্টির পানি জমে রাজধানীর প্রবেশমুখ টঙ্গীতে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। টঙ্গীর যানজট আশপাশের সড়ক মহাসড়ক ছাপিয়ে রাজধানীতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। ঘর থেকে বের হলেই যানজটের ফাঁদে আটকা পড়ছেন মানুষ।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর-গাজীপুর অংশে প্রায় এক যুগ ধরে চলা ‘বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট-বিআরটি’ প্রকল্পের ধীরগতি যানবাহনের গতিও থামিয়ে দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি এলেই এ প্রকল্প এলাকা দিয়ে চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। তখন ট্রাফিক পুলিশকেও অসহায়ের মতো দাঁড়িতে থাকতে দেখা যায়।

বিশেষ করে গত দু’দিনের বৃষ্টিতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বিকল্প পথ ব্যবহারের জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানিয়েছে। জিএমপি তাদের ফেসবুক পেজে ক্ষণে ক্ষণে হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরছে।

বুধবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পরিহার করে বিকল্প রুট ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়ে জিএমপি ফেসবুক পেজে জানানো হয়, ‘ঢাকামুখী টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর ব্রিজে প্রবেশের ঠিক আগেই রাস্তার মাঝ বরাবর বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টির পানি জমেছে। এর সাথে সকাল থেকে ভারী বর্ষণ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।’ অতি জরুরি না হলে উক্ত রুট পরিহার করার অনুরোধ জানিয়ে জিএমপি কর্তৃপক্ষ বিকল্প রুট হিসেবে ‘ভোগড়া বাইপাস-মীরেরবাজার-পূর্বাচল-বসুন্ধরা-খিলক্ষেত-ঢাকা, ভোগড়া বাইপাস কিংবা গাজীপুর চৌরাস্তা-কোনাবাড়ি-চন্দ্রা-সাভার-হেমায়েতপুর-গাবতলী-ঢাকা এবং ভোগড়া বাইপাস কিংবা গাজীপুর চৌরাস্তা-কোনাবাড়ি-চন্দ্রা-আশুলিয়া-ঢাকা’ রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।

এর পর বুধবার দুপুরের হাল অবস্থা তুলে ধরে জিএমপি জানায়, ‘জমে থাকা বৃষ্টির পানির কারণে ডিএমপি এয়ারপোর্ট এলাকায় উভমুখী মহাসড়কে যান চলাচলে ধীর গতি রয়েছে, যার ফলে জিএমপির চেরাগ আলী পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।’

এদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মিলগেট এলাকায় বিআরটি প্রকল্পের ফ্লাইওভারের পিয়ারক্যাপের জন্য খুড়ে রাখা উম্মুক্ত গর্ত, টিন দিয়ে গর্তের চারপাশ ঘেরাও করে সড়ক সংকুচিত হওয়া এবং খানাখন্দসমূহ দীর্ঘমেয়াদেও মেরামত না করার কারণে উভয়মুখী গাড়ি এক লেনে চলাচল করছে। মহাসড়কটির এ অংশে উভয়মুখী রাস্তায় যান চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। মহাসড়কের উভয় পাশের এ অংশে কাদা ও গর্তের কারণে যানজটে আটকেপড়া মানুষের হেঁটে যাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। এখানে বিআরটি প্রকল্পের দুরবস্থার কারণে মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

জিএমপি ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার আলমগীর হোসাইন শিমুল বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। বিআরটি প্রকল্প কর্মকর্তাদেরকে এনে মহাসড়ক পরিদর্শন করানো হয়েছে। তারা আজ (বুধবার) রাতের মধ্যে গর্তগুলো ভরাট করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। রাতের মধ্যে গর্তগুলো ভরাট হলে আগামীকাল থেকে চান চলাচলে গতি ফিরে আসতে পারে তিনি আশা করছেন।

এদিকে বুধবার সকালে ঢাকায় অফিসগামী লুৎফর রহমান সজিব বলেন, সকাল ৬টা ২৬ মিনিটে হোসেন মার্কেট থেকে তিনি বাসে উঠেন। জ্যামে আটকা পড়ে ঠান্ডা আবহাওয়ায় তিনি বাসেই ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল ৭টা ২২ মিনিটে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলে তিনি দেখতে পান, বাসে তিনি ছাড়া আর কোনো যাত্রী নেই। এর পর লক্ষ করলেন ৫৬ মিনিটে মাত্র সাড়ে ৫শ’ মিটার দূরত্বে কলেজ গেটে এসে পৌছেছেন। পরে তিনি অফিসে না গেয়ে হেঁটে বাসায় ফিরে যান। এসময় হেঁটে সাড়ে ৫শ’ মিটার যেতে তার মাত্র ৫ মিনিট লেগেছে। যেখানে বাসে যেতে লেগেছে ৫৬ মিনিট।

ঢাকামুখী বাসযাত্রী ফয়সাল রানা জানান, তিনি টঙ্গী স্টেশন রোড বাসস্ট্যান্ড থেকে বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে বাসে উঠেন। প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বে আব্দুল্লাহপুরে গিয়ে পৌছান দুপুর ১টা ৬ মিনিটে। এই দীর্ঘ সময়ে বিপরীত পাশে গাজীপুরমুখী কোনো গাড়ির চাকা ঘুরতে দেখেননি।

এদিকে জিএমপি’র ফেসবুক পেজে ট্রাফিক আপডেট সংক্রান্তে এক পোস্টে জনৈক সাব্বির ফাহাদ মন্তব্য করে বলেন, ‘এই ধরণের ভোগান্তির শেষ কোথায় বলতে পারেন? সেই কলেজ লাইফ থেকে গাজীপুর টু ঢাকা জ্যাম ঠেলতেছি। আগে সময় মতো কলেজে যেতে পারতাম না। এখন সময় মতো অফিসে যেতে পারি না। সররকার কি একটু সুনজর দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করে আমাদের ভোগান্তি দূর করতে পারে না !!!’ জনৈক মেহেদী হাসান বিপ্লব মন্তব্য করে বলেন, ‘১ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চেরাগআলীতে বাসে বসে আছি। হেঁটে যাওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই, রাস্তার দুই পাশে পানি, এই হলো দেশের উন্নয়নের অবস্থা।’

শেখ আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ মন্তব্য করে লিখেন, ‘What a suicidal project this is! Worst of the history of Bangladesh’ (এটা কী আত্মঘাতী প্রকল্প ! বাংলাদেশের ইতিহাসের জঘন্যতম ঘটনা)।

ইমরান খান লিখেছেন, ‘মিলগেটে কয়েক গজ রাস্তার সমস্যার কারণে আজকে লক্ষ লক্ষ মানষের এত সমস্যা, এ ভোগান্তির শেষ কোথায় ?’ জনৈক তানভীর হোসাইন মন্তব্য করে বলেন, ‘মহাখালী থেকে খিলক্ষেত আসলাম মাত্র ৩ ঘণ্টায়।’