সাইফুল ইসলাম, শেরপুর সীমান্ত অঞ্চল প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের ফুলের মধু আহরণে প্রস্তুতি নিচ্ছেন মৌ-খামারীরা। উপজেলার গারো পাহাড়ে প্রতিবছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ফুলের ও সুন্দরবনের মধু আহরণের ছোটে আসেন মৌ-খামারীরা।

চাঁদপুর থেকে আব্দুল্লাহ মৌ খামারের প্রতিষ্ঠাতা মনিরুল ইসলামকে দেখা যায় গারো পাহাড়ে। তিনি চাঁদপুরের মতলব উপজেলা উদ্বমদী গ্রামের বাসিন্দা। উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বনরাণী সংলগ্ন পশ্চিম পাশে প্রস্তুতি নিচ্ছেন মধু আহরণের। প্রতিবছরের ন্যায় এবারেও তিনি সরিষা, ধনিয়া, কালোজিরা ও লিচুর ফুলের মধু আহরণ করার ইচ্ছে রয়েছে তার। এ ছাড়াও সুন্দরবনের খলিশা, বাইন, গড়ান এবং কেওড়া এসব গাছের ফুল থেকেও খাঁটি মধু আহরণ করা হয়ে থাকে।

খামারী জানান, প্রত্যেক বছরের ডিসেম্বর হতে এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ মাস মধু আহরণ করা হয়। মনিরুল ইসলাম বলেন, তার এক বন্ধু ছিলেন মৌ-খামারী। মধু আহরণের মাধ্যমে নিজের কর্মসংস্থানের ইচ্ছে জাগে মনিরুলের। এরপর সেই বন্ধুর পরামর্শে ২০১৭ সালে মধু আহরণের জন্যে খামারটি প্রথমে চালু করেন। নাম রাখা হয় আব্দুল্লাহ মৌ খামার। অল্পতেই বেশ পরিচিতি লাভ করে তার খামারটি। ৮০ পিচ মৌ কলোনী ও ৪ শত ফ্রেম ক্রয় করে গড়ে তোলেন আব্দুল্লাহ মৌ খামার ব্যয় হয় তার ৩ লাখ টাকা।

তবে ৫ বছরের ব্যাবধানে বর্তমানে তার খামারে ২শ’ পিচ মৌ কলোনীর মাধ্যমে মধু আহরণ করছেন তিনি। এখন প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থানে মধু সংগ্রহ করে থাকেন মনিরুল ইসলাম। খামারটিতে তার নিজের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু পরিবারের লোকজনের হয়েছে কর্মসংস্থান। মধু আহরণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে যেতে হয় তার। তবুও সকল খরচা বাদ দিয়ে বছরে প্রায় ৬ লাখ টাকা আয় হয়।

তিনি মনে করেন নিজের প্রচেষ্টায় প্রতিটা ব্যবসায় রয়েছে কষ্ট ও ঝুঁকি। সার্বক্ষণিক সৎ ও ধৈর্যের সাথে যেকোন ব্যাবসা পরিচালনা করতে পারলে তবেই একদিন সফলতার মুখ দেখা সম্ভব বলেও জানান মৌ খামারী মনিরুল ইসলাম।