সাইফুল ইসলাম, শেরপুর সীমান্ত অঞ্চল প্রতিনিধি : শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীতে চলতি মৌসুমে কাসাভার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। কাসাভা মূলত ‘শিমলা আলু’ নামে স্থানীয়দের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত। কাসাভার প্রতিটা গাছ উচ্চতায় ৪-৫ ফুট উঁচু হয়ে থাকে। প্রত্যেক গাছের গোঁড়ার দিকে মাটির নীচে উৎপাদিত হয় কাসাভা।

কাসাভা চাষাবাদে খরচ কম হলেও অধিক লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় চাষীরা তাদের পরিত্যক্ত জমিতে কাসাভা চাষ করছেন। সীমান্তবর্তী গ্রামসহ আরও বিভিন্ন এলাকায় কাসাভা আবাদ করছেন কৃষকরা।

বাজারে এর চাহিদাও বেশ ভালো। এটি সুস্বাদু ও আলু জাতীয় খাবারের পাশাপাশি ক্ষুধা নিবারণেও চাহিদা মেটায়। এ ছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর শর্করা ও পুষ্টি।

দেশের বিভিন্ন স্থানে চাহিদা থাকার ফলে দিন দিন ‘শিমলা আলু’ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে চাষীরা।

উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ডেফলাই ব্লকের কৃষক আবু তালেব এবং উত্তর ভালুকা গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, কাসাভা (শিমলা আলু) আবাদে সব মিলে প্রতি একর জমিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এক একর জমিতে প্রায় ২শ’ মণ কাসাভা উত্তোলন করা সম্ভব।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে ৩০ টাকা কেজি হিসেবে এখান থেকে কাসাভা নিয়ে যায়। এতে তাদের একর প্রতি প্রায় ২ লাখ টাকা লাভ থাকে বলে কৃষকরা জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাসাভার কোন বিকল্প নেই। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়, ‘কন্দাল ফসল উৎপাদন’ ৩০টি প্রদর্শনী করা হয়। ৩৫ হেক্টর জমিতে কাসাভা আবাদ হয়েছে।

কাসাভা চাষে ভালো ফলন হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে উন্নতির সম্ভাবনা দেখছেন বলেও জানান তিনি।