কাজী খলিলুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী, গাবখান, ধানসিঁড়িসহ জেলার সকল নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ৪ উপজেলার কমপক্ষে ২৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

জোয়ারের পানির সাথে যোগ হয়েছে বৃষ্টি। সকাল থেকে থেমে মাঝারী বৃষ্টি দুর্ভোগ আর বাড়িয়ে দিয়েছে। বৃষ্টির সাথে বাতাস হওয়ায় কারণে জোয়ারের পানিতে এসব গ্রাম তলিয়ে যায়। কাঠালিয়া উপজেলার বিষখালী নদীর অংশে বেরিবাধ না থাকায় জোয়ারের পানিতে উপজেলা পরিষদ ভবন, ইউএনও’র বাসভবন সহ ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৫ টি, রাজাপুরের ৫টি ও নলছিটির ৫টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্র পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পানি বৃদ্ধির কারনে কৃষি-মৎস্যসহ গ্রামের কাঁচা ঘরবাড়ি ও রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে এসব এলাকার মানুষ দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু নিয়ে আছেন দুশ্চিন্তায়। এতে ছোটবড় পুকুরসহ অনেক মাছের ঘের ডুবে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৎস্য চাষিরা।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন জানান, জেলার সব কয়টি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে বিষখালী নদীর তীরবর্তি কাঠালিয়া উপজেলায় বেরি বাঁধের পরিমান খুবই কম। যে কারনে সামান্য পানি বৃদ্ধি পেলেই ওখানকার নিন্মাঞ্চল তলিয়ে যায়। গুরুত্ব বিবেচনা করে ওখানে বেঁরি নির্মানের বিষয়টি আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে।

এদিকে কৃষকারা জানান, সকাল থেকে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে রোপা আমন ও আমনের বাজীতলাসহ লতাকৃষি নিমজ্জিত রয়েছে। পানি স্থায়ী হলে আমন বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জোয়ারে পানি উঠলেও তা আবার ভাটায় নেমে যায়। পানি স্থায়ী না হলে কৃষির কোন ক্ষতি হবেনা বলে কৃষি বিভাগের দাবী।