কাজী খলিলুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : নদীর বুকে চর, সেই চরই এখন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। গড়ে উঠেছে ডিসি ইকোপার্ক। পার্কের মধ্যেই চোখজুড়ানো লেক। তৈরি করা হয়েছে বিশ্রামাগার। শিশুদের চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার বিশখালী নদীর তীরে জেগে ওঠা এই চরটি ‘ছইলার চর নামে পরিচিত।

নয়নাভিরাম এই চরটিকে ঘিরে দেখা দিয়েছে পর্যাটনের বিপুল সম্ভাবনা। পর্যটকরাও আসছেন নিয়মিত। ছইলার চরকে পর্যটন কর্পোরেশেনের আওতায় নিয়ে উন্নয়ন করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বঙ্গপসাগর থেকে একশ কিলোমিটার দূরবর্তী ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার হেতালবুনিয়া গ্রামে বিশখালি নদীতে এক যুগেরও আগে ৪১ একর জমি নিয়ে জেগে ওঠে এক বিশাল চর। যা এখন ৬১টি একরে পরিনত হয়েছে। প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো ছইলা গাছ থেকে চরটি পরিচিতি পেয়েছে ‘ছইলার চর’ নামে।

এখানে কোন হিংস্র প্রাণী না থাকায় এবং সহজ ও অপেক্ষাকৃত নিরাপদ যোগাযোগ ব্যাবস্থার কারণে সারা বছর ধরেই ভ্রমণ পিপাসুদের ভীড় থাকে। পর্যটকদের কাছে চরটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে রোপন করা হচ্ছে নানা প্রজাতির গাছ, তৈরি করা হয়েছে বিশ্রামাগার, শিশুদের চিত্ত বিনোদনের ব্যাবস্থাও করা হয়েছে। চরের একদিকে ২০ একর জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ডিসি ইকোপার্ক। এ পার্কের মধ্যে রয়েছে একটি নয়নাভিরাম লেক। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ভ্রমন পিপাসুদের নদীর দৃশ্য উপভোগ করার জন্য করেছে বিভিন্ন ব্যাবস্থা।

এ চরকে কেন্দ্র করে কয়েক’শ বেকার মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে। তবে সম্পূর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন পর্যটন কর্পোরেশনের সহযেগিতা।

পর্যাটকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা তৈরি করতে পর্যাটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানান কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ছইলার চর হয়ে উঠবে দক্ষিণের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র, এমনটাই মনে করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ জন্য পর্যটন কর্পোরেশনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।