কাজী খলিলুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবককে মারধর করে ভয় ভীতি দেখিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। নিজ ভিটা ছেড়ে তাকে দেশ ত্যাগের হুমকী দেওয়া হচ্ছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়নের গরঙ্গা গ্রামের মৃত: বিরেন চন্দ্র সরকার এর ছেলে রতন সরকার বুধবার ১০ আগস্ট দুপুরে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

এতে লিখিত বক্তব্যে রতন সরকার বলেন, আমি আমার মা ও এক ভাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করি। আমাদের বাড়িটি অত্যান্ত নিরিবিলি স্থানে এর আসে পাশে তেমন কোন বসতি নেই। গত শনিবার (৬ আগষ্ট ) দুপুর ১২ টার দিকে বিনয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দিন পলাশ ২০ থেকে ২৫ জন লোক নিয়ে আমাদের বাড়িতে যান।

বাড়িতে গিয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেন। চেয়ারম্যানের সাথে থাকা লোকজন বিনয়কাঠি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর ফকির, খোকন মল্লিক, পরিমল চন্দ্র শীল, পংকজ কুমার শীল, অবসর প্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম ও মোবাশ্বেরসহ আরো ৫ থেকে ৭ জন মিলে আমাকে মারধর করে। ভয় ভীতি দেখিয়ে জোর করে একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। পরে এগুলো নিয়ে বারাবারি করবি না বলে শাসায়। এক পর্যায়ে দেশ ত্যাগের হুমকী দেয়।

এঘটনার পর থেকে ভয়ে আমি বাড়িতে যেতে পারতেছি না। পালিয়ে থাকতে হচ্ছে আমাকে। আমার বৃদ্ধ মা একা বসবাস করছেন। যে কোন সময় আমার উপরে হামলা হতে পারে। আমি চমর ভাবে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। এব্যাপারে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। কোন প্রতিকার পাইনি

রতন সরকার আরো বলেন, ‘আমার বাবা মারা যাওয়ার পরে ওয়ারিশ সুত্রে পাওয়া দুই একর ৮৩ শতাংশ জমি অর্থে অভাবে ২০২১ সালের ৩ মার্চ বিক্রি করি। এর পর থেকেই জাহাঙ্গীর ফকির, পরিমল চন্দ্র শীল, খোকন মল্লিক, পংকজ কুমার শীল, অবসর প্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম ও মোবাশ্বেরসহ এই মহলটি আমাদের ওপরে ক্ষিপ্ত ছিল । তারা এখন চাচ্ছে আমাদের বসত বাড়িসহ ফসলি জমি ফেলে রেখে আমরা এই দেশ ত্যাগ করে যাই। আমি এব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেভ কামনা করি।

এব্যাপারে বিনয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন পলাশের ব্যবহৃত মুঠোফোনে (০১৭৩১৩৭৫১২৫) একাধিক বার কল করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি খলিলুর রহমান বলেন,‘ আমি এধরনের একটি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি । তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।