কাজী খলিলুর রহমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : মাল্টা বিদেশী বা পাহাড়ি ফল হিসেবে পরিচিত হলেও সমতল ভূমিতেও রয়েছে এ ফলের ব্যাপক সম্ভাবনা। ঝালকাঠি জেলার ৪টি উপজেলায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে মাল্টা চাষ। এ জেলায় এমন পর্যাপ্ত ছোট বড় আকারে গড়ে উঠেছে মাল্টা বাগান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি জেলার ৪ উপজেলায় ২৬০ হেক্টর জমিতে মাল্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই জাতীয় পুষ্টিকর রসালো মাল্টার হেক্টর প্রতি উৎপাদন ৫ মেট্রিক টন। আবাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বছর ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন মাল্টা উৎপাদনের আশা।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাল্টা চাষের জন্য উপযুক্ত হলো আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ। এই জেলায় প্রধানত বারি-৩ জাতের মাল্টা চাষ হচ্ছে। এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। আর ঝালকাঠিতে যে কোন কৃষি উৎপাদনের জন্য বলা চলে উর্বর ভূমির ফলে আশানুরূপ ফলন হচ্ছে। মাল্টা চাষে সার্বিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। বাজারে বেশ চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় দিন দিন মাল্টা চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। বিদেশে থেকে চাকরি শেষে এক শ্রেণীর মানুষ নিজ এলাকায় এসে বড় বড় বাগান করার ফলে মাল্টা আবাদ দ্রত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাল্টা সঙ্গে সাথী ফসল চাষ করলে জমিতে আগাছাও কম হয়, ফলে মূল ফসলের ফলন অনেকাংশে বেড়ে যায়। এই জেলায় মাল্টাসঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে চাষিরা পেঁপে, বাতাবী ও কমলা লেবু, পেঁয়াজ, রসুন, সরিষা, মিষ্টি কুমড়া ও আলু জাতীয় ফসলগুলো আলাদা জমি ছাড়াই বিনা সেচে বৃষ্টির উপর নির্ভর করে চাষ করা যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাল্টা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সাথী ফসল থেকে আংশিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। পেঁয়াজ ও রসুনের পাতায় তীব্র ঝাঁঝ থাকায় সাথী ফসল হিসেবে মাল্টা চাষ করলে মাল্টা পোকামাকড়ের উপদ্রব কম হয়।

স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা খুচরা ৭০-৮০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকা-বরিশালসহ অন্যান্য জেলায়ও সরবরাহ করা হচ্ছেএ জেলার মাল্টা। ফরমালিন মুক্ত থাকায় মানুষের মধ্যে এই জাতের মাল্টার চাহিদা রয়েছে এবং বাগান থেকে এক শ্রেনীর বিক্রেতারা কিনে এনে ভ্যানে করে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেছে । স্থায়ী দোকানগুলোর চেয়ে ভ্যানগাড়ীর দোকান থেকে এই জাতীয় ফল ক্রয়ের ক্রেতা বেশি ।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগ মাল্টাচাষ সহ সকল ধরনের ফল চাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নতজাতের চারা বিতরণ ও সম্প্রসারনে কৃষকদের অনুপ্রেরণা ও প্রযুক্তির সরবারহ করছে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সব জমি যেন কৃষি আবাদের আওতায় আসে সে লক্ষ্যে ঝালকাঠিতে কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেকে অনুপ্রাণিত হয়ে জেলায় বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন। তাদেরও প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

ঝালকাঠির সবচেয়ে বড় মাল্টা বাগান মনিরুজ্জামানের মাল্টা বাগান। ঝালকাঠিতে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে মাল্টা চাষ।