জয়পুরহাট সংবাদদাতা : স্বল্প সময়ের ফসল হিসেবে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে অধিক লাভবান হওয়ায় জেলার প্রান্তিক কৃষকরা তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন।

সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন জয়পুরহাটের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এহেড সোশ্যাল অর্গানাইজেশন (এসো)।

সংস্থার কৃষি ইউনিটের কর্মকর্ত শলিল চৌধুরী জানান, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর হতে কৃষি ইউনিট এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ইউনিটের আওতায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে সংস্থাটি।

এরই ধারাবাহিকতায় কৃষি ইউনিটের আওতায় ২০১৭-২০১৮ অর্থবছর হতে কৃষকরা গ্রীষ্মকালীন তরমুজের চাষ করে আসছে। প্রথমে কৃষকদের মাঝে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে তেমন আগ্রহ ছিল না। শখের বসে দুই/ আড়াই শতাংশ জমিতে প্রথমে ওই তরমুজের চাষ করে সফলতা পাওয়ায় তা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানান যায়, বর্তমানে কালাই, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর ও পাঁচবিবি এলাকায় প্রায় ২০০ বিঘার অধিক বেশি জমিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ হচ্ছে। তরমুজ চাষির সংখ্যা হচ্ছে ২৫০ জন।

কর্ণপাড়া গ্রামের কৃষক কমল বর্মন স্থানীয় বাজারে কুলি মজুরের কাজ বাদ দিয়ে ৩৪ শতাংশ জমিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে লাভবান হওয়ায় কুলি মজুরের কাজ বাদ দিয়ে এখন তরমুজ চাষ করছেন বলে জানান।

একই গ্রামের আরও দুই কৃষক কৃষ্ণ চন্দ্র ও অনিল চন্দ্র চলতি বছর ৩০ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। কৃষক অনিল চন্দ্র এখন পর্যন্ত তার জমি থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন এবং আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা বিক্রয়ের আশা করছেন। প্রথম বারে ১ বিঘা জমিতে তরমুজের উৎপাদন খরচ পড়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কৃষকের আর মালচিং পেপার এবং খুঁটি ,মাচার বাঁশ ক্রয় করতে হয়না ফলে উৎপাদন খরচ অর্ধেকে নেমে আসে।

ভারাহুত গ্রামের কৃষক মুসা আড়াই শতাংশ জমিতে প্রথম তরমুজ চাষ করে। অধিক লাভবান হওয়ায় বর্তমানে তরমুজের জমির পরিমাণ হচ্ছে ১ একর। কৃষক রেজোয়ান হুসাইন ১ একর, রবিউল ইসলাম ২ বিঘা, রুবেল মিয়া সাড়ে ৩ বিঘা, মিজানুর রহমান ২ বিঘা, বাবু মিয়া ১ একর জমিতে তরমুজ চাষ করছেন।

দিন দিন কৃষকের মধ্যে তরমুজ চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে তরমুজের বাজার দর কম হলেও প্রতিমণ ৮শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এতেও বিঘা প্রতি কৃষকের প্রায় ৪০/ ৫০ হাজার টাকা নীট লাভ থাকছে বলে জানান তরমুজ চাষি রুবেল মিয়া।

কৃষি ইউনিটের অধিন গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করায় দিন দিন কৃষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। জমিতে বছরে তিন বার ওই তরমুজ চাষ হচ্ছে বলেও জানান তিনি।