ছবি: সংগৃহীত

খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই মধ্যরাতে ঢাকাসহ দেশের অনেক শহরের পেট্রলপাম্পগুলোতে মানুষের অস্বাভাবিক ভিড় জমে যায়। পেট্রলপাম্প মালিক ও ভোক্তাদের মধ্যে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়।

সরকারি ঘোষণায় গত মধ্যরাত (৫ অগাস্ট) থেকেই জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়। ওই ঘোষণার পরই মানুষ পাম্পে ছোটেন।

ভীড় সামলাতে এবং বিক্ষুব্ধ মানুষের চাপে ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, বগুড়া, রংপুর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাম্প বন্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি সামলাতে ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় পেট্রোলপাম্পে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খবরে কয়েকটি জেলায় বিক্ষোভ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

গতরাতে ঢাকায় কয়েকটি পেট্রলপাম্প ঘুরে দেখা যায় সব কটিতেই ছিল অস্বাভাবিক ভিড়। দীর্ঘ সারিতে দাড়িয়ে শত শত মানুষ যেন শেষবারের মত পুরনো দাম তেল কিনে নিতে চাইছিলেন।

পাম্পগুলোতে সব ধরণের যানবাহন, বিশেষ করে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য।

যানচালকদের অভিযোগ, হঠাৎই তেলের দাম বাড়ানোর খবরে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার পর পাম্প-মালিক ও কর্মচারীরা তেল বিক্রি বন্ধ করে দেন। অনেকে পাম্পগুলোর আলো নিভিয়ে বন্ধ করে দিয়ে চলে যান।

এতে জ্বালানি তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল ও যানবাহনের চালক এবং আরোহীদের তোপের মুখে পড়েন পাম্পের শ্রমিক ও কর্মকর্তারা। এ নিয়ে অনেক জায়গাতেই বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

ঢাকার অনেক পাম্পে শুক্রবার রাতে পাম্পের শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সাথে মারামারি এবং ভাঙচুর করেছেন বিক্ষোভকারীরা।

রাজশাহীতে সড়ক অবরোধ

রাজশাহী শহর এবং এর আশপাশের এলাকায় ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এমন পেট্রলপাম্পগুলো শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বন্ধ করে দেয়া হয়।

জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার খবরে এসব পাম্পে ভিড় জমান যান চালকেরা। শহরের মতিহারের কাজলা এলাকায় যেখানে শিক্ষার্থীরা থাকেন, তার আশপাশের পেট্রলপাম্পগুলোতে ভিড় জমান বহু মানুষ। কিন্তু ভিড় দেখে পেট্রলপাম্প মালিক-কর্মচারীরা বাতি নিভিয়ে দিয়ে পাম্প বন্ধ করে দেন।

এতে ক্ষুব্ধ মোটরসাইকেল চালকেরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাদের ব্যারিকেডে প্রায় এক ঘণ্টার মত যান চলাচল বন্ধ ছিল।

রাত সাড়ে ১১টার পর পুলিশ এসে পেট্রলপাম্প মালিককে জ্বালানি তেল সরবারহে বাধ্য করে। এরপর অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রামে গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার

দেশে সকল প্রকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বাসসহ গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক সমিতি।

শনিবার (৬ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি বেলায়েত হোসেন।

তিনি বলেন, ‌‘হুট করে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়ায় আমরা বেকায়দায় পড়েছি। এজন্য গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয়ের দাবিতে আমরা ধর্মঘট ডেকেছিলাম। আজ বিকেলে যেহেতু বিআরটিএর গণপরিবহন ভাড়া নির্ধারণ বিষয়ক সমন্বয় কমিটি সভা ডেকেছে, তাই আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গণপরিবহনের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ হওয়ায় শনিবার থেকে নগরে বাস না চালানোর ঘোষণা দিয়েছিল বাস মালিকদের সংগঠন। এর ফলে বাসসহ সকল প্রকার গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ে চট্টগ্রামের মানুষ।

এদিকে, সিলেট শহরের কয়েকটি পাম্প আগে আগে বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে মোটরসাইকেল চালকেরা বিক্ষোভ করেছেন, পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রায় সব ফিলিং স্টেশন শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন কয়েকশ’ গ্রাহক।

জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার খবরে সাতক্ষীরায় পাম্প মালিকেরা নির্ধারিত সময়ের আগে পাম্প বন্ধ করে দেয়ায়, মোটরসাইকেল চালকেরা সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ করে রাখেন।

বগুড়ায় বাস মালিক-শ্রমিকরা পরিবহন চালানো বন্ধ রেখেছেন। তারা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে জ্বালানী তেলের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের পক্ষে পরিবহন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।