রবিউল হাসান রবি, চট্টগ্রাম ব্যুরো : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেছেন, বর্তমান সরকার একটি জ্ঞানভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় ৷ আমরা একটি বহুমাত্রিক সমাজে বসবাস করি। জ্ঞান ও ন্যায়ভিত্তিক বহুমাত্রিক সমাজ ছাড়া গণতন্ত্র সুসংগঠিত হয় না, দেশ এগিয়ে যায় না। যেখানে মুক্তমতের চর্চা হয় না সেখানে সমাজ আগায় না। অনেক দেশে মুক্তমতের দমন করা হয়। আমরা চাই একটি বহুমাত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে অবদান রেখে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে আলোকিত করবে৷ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সে কাজ করার সুযোগ বেশি।

বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬তম জন্মদিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬তম জন্মদিন। আমি বিদেশ থেকে এসে অফিস এবং সংসদে না গিয়ে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছি। কারণ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমার আবেগ ও ভালোবাসা গভীর। এই বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে আছে অনেক স্বপ্ন ও স্মৃতি। আমার অনেক বন্ধু এখন আর বেঁচে নেই। অনেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।’

‘আমার মনে পড়ে যখন ১৯৭৯ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসেছিলেন এই ক্যাম্পাসে। তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম না। তবে ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। তখন এই ক্যাম্পাসে একটি অপশক্তির প্রভাব ছিল। ১৯৮৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর চাকসু ভবনের সামনে থেকে আমাকে তুলে নিয়ে যায় তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা। চট্টগ্রাম শহরে কুৎসা রটনা করা হয় আমাকে হত্যা করা হয়েছে। বারবার নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে রাজনীতির মাঠে। এখনো শরীরে সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছি।’ —বলেন ড. হাসান মাহমুদ।

বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র সার্টিফিকেট প্রদানের জন্য নয় মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি প্রদান করা হবে, পাঠদান হবে, গবেষণা হবে, হবে সাংস্কৃতি-রাজনীতি ও মুক্তিবুদ্ধির চর্চা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের উদ্যেগ নিবে—এভাবে তাদের মেধা ও মনন শাণিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি এসব না করে তবে ঢাকা শহরের গার্মেন্টস-মার্কেটের উপরে গড়ে উঠা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এর কোন তফাৎ থাকবে না। এখানে মুক্ত সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে। সেই সংস্কৃতি হতে হবে আবহমান বাংলার সংস্কৃতি; হিন্দি বা ইংরেজি গানের চর্চা নয়। এখানে নজরুল জয়ন্তী, রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপিত হবে; পহেলা বৈশাখে এই ক্যাম্পাস সাজবে বর্ণিল সাজে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশাপাশে বেদখল পাহাড় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছে আবেদন করে তা চেয়ে নিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগকে দায়িত্ব দিয়ে সেখানে বিপন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো যেতে পারে। এভাবে ক্যাম্পাসের সবুজ ধরে রাখা যাবে।’

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই ক্যাম্পাসের অনেক জ্ঞানী-গুণী শিক্ষক রয়েছেন। এখানে পড়াশোনা করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, এখান থেকে হয়েছেন বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ। এছাড়া দেশে বিদেশে বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে নিয়োজিত আছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে র‌্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকালে তা একদম নিচের দিকে। তাই আমি বলবো র‌্যাঙ্কিংয়ে আগাতে যারা এইসব প্রতিবেদন প্রণয়ন করে তাদের সাথে যোগাযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রদান করতে। তাহলে র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক উপরে চলে আসবে। কারণ যারা র‌্যাঙ্কিং করে তাদের কাছে পর্যাপ্ত ডাটা নাও থাকতে পারে।’

এর আগে এদিন সকালে ৫৬তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে শহিদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে এক আনন্দ র‌্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় কেক কেটা হয়৷

চবি প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় এতে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যার ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উত্থাপন করেন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন ড. মুহিবুল আজীজ।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এসএম মনিরুল হাসান, চবির সাবেক উপাচার্য ড. বদিউল আলম, অধ্যাপক ড. আনোয়ারুজ্জামান আরিফ, চাকসু ভিপি সাবেক মাজহারুল হক শাহ, বর্তমান ভিপি নাজিম উদ্দিন, চবির এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহাবুব আলম (অনলাইন)।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট-সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, ডিনবৃন্দ, শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।