হারিস মোহাম্মদ, জুড়ী প্রতিনিধি : বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয় মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন (এমপি) মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বন্যা দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং দূর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। ২২ জুন বুধবার সকাল থেকে উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ও জায়ফরনগর ইউনিয়নের বন্যা দূর্গত বিভিন্ন গ্রাম এবং আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এ সময় মন্ত্রী দূর্গত এলাকার মানুষের খোঁজ খবর নেন। বন্যা দূর্গত এলাকার মানুষদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, যে কোন দূর্যোগের সময় আমাদের সরকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করে।

আজ সিলেটের মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে কষ্ট পাচ্ছে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আমি গত কাল সিলেটের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। প্রধান মন্ত্রী বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ একজন মানুষও অনাহারে থাকবে না। দূর্গত এলাকা গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ সামগ্রী পৌছে দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জুড়ী উপজেলার বন্যা দূর্গত এলাকার মানুষের দুঃখ কষ্ট দেখে তাঁর সরকারের পক্ষ থেতে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ঘরে ঘরে পৌছে দেয়া হচ্ছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বন্যার কারনে কোন মানুষ যেনো না খেয়ে থাকে সে জন্য নজরদারি বাড়ানোর জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।

ত্রাণ কার্যক্রম চলাকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মোঈদ ফারুক, জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া সুলতানা, জুড়ী উপজেলা মহিলা ভাইস রঞ্জিতা শর্ম্মা, ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাস, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি, জায়ফরনগর ইউপি ভারপাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, পশ্চিম জুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আনফর আলী, সাবেক চেয়ারম্যান শ্রীকান্ত দাস। এছাড়াও আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের ত্রিপুরা ও আসাম রাজ্য থেকে নেমে আশা পাহাড়ী ঢলে জুড়ী উপজেলার এক তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। বাড়ী ঘর ঢুবে যাওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ২৯৮০ পরিবারের প্রায় ৩৭ হাজার মানুষ আশ্রয় নেয়।

উপজেলার বেলাগাও, সোনাপুর, দিঘলবাক, শাহপুর, প্রহল্লাদপুর, জাঙ্গীরাই, নয়াগ্রাম, শিমুলতলা, হরিরামপুর, বাছিরপুর, কৃষ্ণনগর, খাগটেখা, কালনীগড় ও বনগাওঁ ও হেকিমপুর সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকার মানুষের ঘরে কোমর পর্যন্ত পানি, বাড়ির বেশির ভাগ লোকজন আশ্রয় নিয়েছেন আশ্রয় কেন্দ্রে। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বন্যার্তদের পাশে দাড়িয়েছে প্রশাসন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও ২৪ টি আশ্রয় কেন্দ্র চালু আছে। আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে ২৯৮০ টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের ৩৬৪০০ জনের মত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে খাদ্য সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি খোজ খবর নেওয়া হচ্ছে।