হারিস মোহাম্মদ, জুড়ী : মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীতে পিডিবির অস্বাভাবিক ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সাধারণ জনগণ। ভুক্তভোগী জনগণের ব্যানারে উপজেলার নাইট চৌমুহনীতে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১ টায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় মানববন্ধনে ওই পথে যাতায়াতকারী পথচারীরাও একাত্ত্বত্বা প্রকাশ করেন।

মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগীরা পিডিবি অফিসে গিয়ে ঘেরাও সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। পরে পিডিবির লাইনম্যান হারুন মিয়া ভুতুড়ে বিলের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলে সমাধান করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

মানববন্ধনকারীরা বলেন, বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে করতে আমরা সর্বশান্ত। আগের তুলনায় এখন কয়েকগুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল আসছে। আমরা বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলে তারা বলে আগামী মাস হতে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু মাসের পর মাস ধরে অস্বাভাবিক বিল আসছেই। সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে। বিছিন্ন সংযোগ পূণরায় নিতে গেলে ভুতুড়ে বিল পরিশোধের পাশাপাশি সংযোগ নিতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। মানববন্ধনে বক্তারা এ থেকে পরিত্রানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

উপজেলার জাঙ্গিরাই গ্রামের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, প্রতিমাসে মিটারের রিডিং না দেখে বিল দেওয়ায় ৮০০ থেকে ১০০০ ইউনিট বেশি বিল দেওয়া হচ্ছে। এতে করে আমাদের ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে। বার বার অফিসে গিয়েও সমাধান না হওয়ায় আমরা মানববন্ধন করতে বাধ্য হয়েছি। আগামীতে প্রয়োজনে পিডিবি অফিস ঘেরাও করা হবে।

আলাপকালে মানববন্ধনে উপস্থিত আবু সাঈদ জানান, আমার বাবার নামের মিটারে প্রতি মাসে দুই হাজারেরও বেশি ইউনিটের বাড়তি বিল দেওয়া হচ্ছে। আমরা ভুতুড়ে বিল থেকে পরিত্রাণ চাই। ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলাম জানান, আগে আমার বাড়িতে সাড়ে ৪ শত থেকে ৫ শত টাকা বিল আসতো এখন আসে ৩ হাজার হতে ৩২শত টাকা বিল আসে। বিদ্যুৎ বিল দিতে গিয়ে আমরা সর্বশান্ত। বেলাগাও গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, আমার মিটারে প্রতি মাসে ৩ হাজার ইউনিটের বেশি বিল দেওয়া হচ্ছে। আমি একজন সাধারন কৃষক। কিন্তু বারবার অফিসে গিয়েও এ সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। আমরা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।

জানা যায়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটারের রিডিং দেখে বিল দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিমাসে অফিসে বসে অনুমান নির্ভর ভুতুড়ে বিল তৈরি করে গ্রাহকদের কাছে বিলি করা হয়। এতে করে অতিরিক্ত বিলের বোঝা মাথায় নিয়ে বিদুৎ অফিস সহ বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিচ্ছে সাধারন গ্রাহক। অনেক সময় অফিসের লোকজনের সাথে ভুতুড়ে বিলকে কেন্দ্র করে গ্রাহকরা জড়িয়ে পড়ছেন বাক বিতণ্ডায়। দীর্ঘদিন থেকে এ সমস্যা চলতে থাকায় গ্রাহকদের দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা রিডিং না দেখে বিল দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, অনেকেই অবৈধভাবে বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যবহার করছেন। তার কারণে বিদ্যুৎ বিতরণে সিস্টেম লস হচ্ছে। এ ঘাটতি পূরণে বৈধ গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিল দিয়ে সমন্বয় করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জুড়ী পিডিবির উপ – সহকারী প্রকৌশলী আনসারুল কবির শামীম বলেন, যারা অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ করেছেন মিটার দেখে সম্বনয় করা হবে। এ সময় তিনি সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী প্রিপেইড মিটার লাগানোর জন্য গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানান।