হারিস মোহাম্মদ, জুড়ী : মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মঈন উদ্দিন মারা যান ২০২১ সালের ৩০ জুলাই।

মারা যাওয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় অতিক্রম হয়েছে এরই মধ্যে। কিন্তু মৃত্যুর পর এখনও হয়নি উপ- নির্বাচন। এ নিয়ে সেবা গ্রহিতাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করলেও কর্তৃপক্ষ অজানা কারণে নিশ্চুপ‌।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩০ জুলাই শুক্রবার পূর্ব বটুলী গ্রামের নিজ বাড়িতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ইউপি সদস্য মঈন উদ্দিন। এর আগে তাঁর বড় ভাই এ ওয়ার্ডের সাবেক দুই বারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য লাল মিয়া মারা যাওয়ার পর উপনির্বাচনসহ দুই বার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন মঈন উদ্দিন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বীয় বুদ্ধিমত্তায় নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকার উন্নয়নে রেখেছেন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। তবে তার আকস্মিক মৃত্যুর পর এলাকাবাসী হয়ে পড়েন অভিভাবক শূন্য। মূলত তাঁর মৃত্যুর পর জনসাধারণ জন্ম- মৃত্যু সনদ সহ সামাজিক বিচার আচার নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

সরকারি সেবা পেতে অনেকে পড়তে হচ্ছে নানা জটিলতায়। ইউপি সদস্যদের মৃত্যুর তিন মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও না হওয়ায় ওয়ার্ডবাসীর বিড়ম্বনা বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে দিন দিন এলাকাবাসীর মধ্যে চরম হতাশা বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, এই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য না থাকায় তারা বিভিন্ন সময় অনেক বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

জানা যায়, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কোন ইউপি সদস্য মারা গেলে বা কোন কারণে অপসারণ করা হলে ১৮০ দিন বা ৩ মাসের মধ্যে উপ নির্বাচন দেওয়ার বাধ্যবাধকতার বিধান রয়েছে ‌। তবে জুড়ী উপজেলার এ ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচন রহস্য জনক কারণে না হওয়ায় হতাশ সাধারণ ভোটাররা।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী কোন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্যের পদ তাঁহার মৃত্যু, পদত্যাগ, অপসারণ বা অন্যবিধ কারণে তাঁহার মেয়াদ পূর্তির কমপক্ষে ১৮০ (একশত আশি) দিন পূর্বে শূন্য হয় তাহলে উক্ত শূন্যতার তারিখ থেকে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে অবশিষ্ট সময়ের জন্য শূন্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে এ ইউপি সদস্যের ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর গেজেট প্রকাশিত হলেও নির্বাচন দেওয়া হয় নি‌।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার হাফিজুর রহমান বলেন, এ ওয়ার্ডের উপ- নির্বাচনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে যথাসময়ে জানানো হয়েছে। উপ-নির্বাচনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হােসেন বলেন, এ উপ- নির্বাচনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।