খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : জার্মান স্থানীয় সময় গতকাল রাত আটটায় প্রকাশিত সাময়িক ফলে দেখা যাচ্ছে সামাজিক গণতন্ত্রী দল-এসপিডি বিদায়ী চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সিডিইউ/সিএসইউ দলের চেয়ে এক শতাংশ ভোটে এগিয়ে আছে৷

এই ফলে দেখা যাচ্ছে সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি (২৫.৫ শতাংশ), খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী সিডিইউ/সিএসইউ (২৪.৫ শতাংশ), সবুজ দল (১৩.৮ শতাংশ), মুক্ত গণতন্ত্রী এফডিপি (১১.৭ শতাংশ), অভিবাসনবিরোধী এএফডি (১০.৯ শতাংশ), বাম দল (৫ শতাংশ) ও অন্যান্য (৮.৬ শতাংশ) ভোট পেয়েছে৷

এর আগে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফলে দেখা গিয়েছিল সিডিইউ/সিএসইউ দল এবং এসপিডি ২৫ শতাংশ করে ভোট পেতে যাচ্ছে৷ সবুজ দল পেতে যাচ্ছে ১৫ শতাংশ ভোট৷ ২০১৭ সালের নির্বাচনের তুলনায় এসপিডি প্রায় সাড়ে চার শতাংশ ভোট বেশি পেয়েছে৷ সবুজ দলের ভোট বেড়েছে ছয় শতাংশের বেশি৷ চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সিডিইউ দলের ভোট কমেছে প্রায় আট শতাংশ৷

এসপিডির চ্যান্সেলর প্রার্থী ওলাফ শলৎস বলেছেন, ভোটাররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা তারে ‘পরবর্তী চ্যান্সেলর’ হিসেবে চান৷

সিডিইউ/সিএসইউর চ্যান্সেলর প্রার্থী আরমিন লাশেট বলেছেন, খারাপ ফল সত্ত্বেও একটি নতুন সরকার গঠনের জন্য ‘আমরা যতটুকু পারি’ চেষ্টা করে যাব৷ ‘‘নির্বাচনের এমন ফলে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনা,’’ সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন তিনি৷ লাশেট বলেন, ‘‘আমরা রক্ষণশীলদের নেতৃত্বে একটি সরকার গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাব কারণ জার্মানদের এখন এমন জোট প্রয়োজন যেটা আমাদের দেশের আধুনিকায়নের জন্য দরকার৷’’

সবুজ দলের চ্যান্সেলর প্রার্থী আনালেনা বেয়ারবক বলেন গত নির্বাচনের চেয়ে ভোট বাড়লেও তার দল প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পায়নি৷ ‘‘আমরা আরও চেয়েছিলাম৷ আমরা তা পাইনি৷ এর একটা কারণ প্রচারণার শুরুতে আমরা কিছু ভুল করেছিলাম- আমারও ভুল ছিল,’’ সমর্থকদের বলেন তিনি৷

স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়৷ চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত৷ আট কোটি মানুষের এই দেশে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি৷

ভোটাররা দু’টি করে ভোট দিয়েছেন৷ একটি ভোট সরাসরি প্রার্থী নির্বাচনের, অপরটি পছন্দের দলকে৷ দ্বিতীয় তালিকায় দলীয় সমর্থনের অনুপাতের ভিত্তিতে সংসদে অর্ধেক আসনে প্রার্থী স্থির করা হয়৷ তবে কে চ্যান্সেলর হতে যাচ্ছেন তা আজই নির্ধারিত হবে না৷ পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা চ্যান্সেলর নির্বাচিত করবেন৷

২৯৯টি সংসদীয় এলাকায় সরাসরি নির্বাচন হয়েছে৷ অন্য আসনগুলো দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী মীমাংসিত হয়৷ নিয়ম অনুযায়ী, দলগুলো তাদের ভোটপ্রাপ্তির সংখ্যাতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেও মনোনীত প্রার্থীদের পার্লামেন্টে পাঠাতে পারে৷ কোনো দল ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে পার্লামেন্টে যাওয়ার গ্রহণযোগ্যতা হারাবে৷

এবারের নির্বাচনে ৪৭টি দল ৬ হাজার ২১১ জন প্রার্থী দিয়েছে৷ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ছয় হাজার৷