নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষার্থী ভিসাকে জরুরি ও বিশেষ সেবা বিবেচনায় নিয়ে ভিসা কার্যক্রম পরিচালনা জার্মান দূতাবাসের কাছে আহবান এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহব্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা।

গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানায়। এতে তারা বলেন, বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করে প্রতি বছর হাজারো মেধাবী বাংলাদেশী শির্ক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে ইউরোপের অন্যতম শিক্ষা সহায়ক দেশ জার্মানিতে যাত্রা করে।

উচ্চ শিক্ষা এবং গবেষণা কার্যক্রম শেষে দেশ সেবার মহান ব্রত নিয়ে স্বদেশে ফিরে এসে এ সকল শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবনি আলোয় বিকশিত করে আমাদের দেশকে। দুর্ভাগ্যক্রমে বিশ্বব্যাপী করোনার মহামারীর প্রভাবে বাংলাদেশস্থ জার্মান দূতাবাসে ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত করেছে। এতে এবং লকডাউনের প্রভাবে দূতাবাস অফিসে শিক্ষার্থীদের ভিসা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় সহস্রাধিক আলোকিত সম্ভাবনাময়ী শিক্ষার্থীদের জার্মানিতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের বিষয়টি বর্তমানে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

গত ১ বছরে প্রায় সহস্রাধিক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী জার্মানির বিভিন্ন পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হয়ে গত ৩ সেমিষ্টার (সামার ২০২০, উইন্টার ২০২০/২১, সামার ২০২১) অনলাইনে ক্লাস করছে (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জরিপ অনুযায়ী)। ইতোমধ্যে প্রায় প্রত্যেকেই ব্লক একাউন্টের ১১,০০,০০০/- (এগারো লক্ষ টাকা) জমা রেখেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে অনেকেই কয়েক লক্ষাধিক টাকা টিউশন ফিও জমা দিয়েছে।

তাই, প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ভিসা সাক্ষাৎকার ও ভিসা প্রাপ্তির প্রত্যাশায় থাকলেও লক-ডাউনের পূর্বে খুবই অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীই দূতাবাস হতে তাদের ভিসা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে কিন্তু সাম্প্রতিক লক-ডাউন আরোপের কারনে অধিকাংশেরই ভিসা কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গিয়েছে।

জার্মানিতে গত ৩ সেমিস্টার অনলাইন ভিত্তিক পাঠ্যক্রম পরিচালিত হলেও আগামী সেমিস্টার থেকে জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসরুম ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায়, সর্বাত্মক স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত বাংলাদেশস্থ’ জার্মান দূতাবাসের কার্যক্রম পরিচালিত না হলে যথাসময়ে ভিসা পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ফলাফল স্বরুপ, বিশ্বাবিদ্যালয় প্রশাসন হতে শিক্ষর্থীদের ছাত্রত্ব বাতিলের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায়, হুমকির মুখে পড়বে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ও ক্যারিয়ার। আশাহত হবে সহ¯্র পরিবার, ভেঙে পড়বে শিক্ষার্থীদের মনোবল, দেশ হারাবে সম্ভাবনাময়ী গবেষকদের।

জার্মানিতে শিক্ষা ব্যবস্থা থিওরি, প্র্যাকটিক্যাল ও ইন্টার্নশিপের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে থিওরি ক্লাস অনলাইনে পরিচালিত হলেও প্র্যাকটিক্যাল এবং ওয়ার্কশপ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানে স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করতে হয়। তাই, শুধুমাত্র থিওরি ক্লাসে অংশগ্রহন করে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ একেবারেই ক্ষীণ।

তাই শিক্ষার্থীগণের বেশিরভাগ বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। লাইব্রেরিতে প্রবেশ করার সুযোগ না থাকায় রিসার্চ ভিত্তিক অধ্যয়ন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা। এমতাবস্থায় শুধুমাত্র ভিসা জটিলতার কারনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময়ী এ মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেক শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহন করছে, ইন্টারনেট কানেকশনের সমস্যার কারনে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস লেকচার যথাযথভাবে বুঝতে পারছে না। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রেজেন্টেশন ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডর্মেটরি এবং স্বাস্থ্য বীমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীদেরকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা বাংলাদেশ থেকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে করে তারা প্রাপ্ত সুবিধাদি ভোগ করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

দীর্ঘ দিন অপেক্ষার পর ভিসা সংক্রান্ত স্বাক্ষাৎকার পাওয়ার বিষয়ে ক্রমাগত অনিশ্চয়তা এবং বিলম্বের কারনে শিক্ষার্থীরা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অনেক অভিভাবকবৃন্দ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

তাই সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে, সহস্র শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ সরকার এবং জার্মান দূতাবাসের প্রতি একটাই দাবি ‘লক-ডাউন চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থী ভিসাকে জরুরি ও বিশেষ সেবা বিবেচনায় নিয়ে ভিসা কার্যক্রম পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা এবং গবেষণা কার্যক্রম চলমান রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি করেন তারা।