ফাইল ছবি             

তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) : সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের সুরমা নদীতে পাথর বহনকারী বাল্কহেড নৌকার সাথে বালি বহনকারী নৌকার সংঘর্ষে তিন জন শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আনুমানিক ৮ টায় জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের লালপুর গ্রাম সংলগ্ন ও গোলকপুর নদীর বাঁকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার খবর শুনে আশপাশের গ্রামের লোকজন ও জামালগঞ্জ উপজেলার মন্নান ঘাট এলাকার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা গভীর রাত পর্যন্ত অনেক খোঁজাখুঁজি করেও নিখোঁজদের সন্ধান পায়নি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জামালগঞ্জ থেকে মন্নান ঘাট এলাকার দিকে একটি বালি বোঝাই নৌকা বালি বিক্রির জন্য প্রতিদিনের মতো যাচ্ছিল। ঘটনার রাত বালু নিয়ে যাওয়ার সময় গোলকপুর বাজার ও লালপুর গ্রাম সংলগ্নে নদীর বাঁকে পাথর বহনকারী বাল্কহেড বড় নৌকার সাথে সংঘর্ষ হয় বালি বহনকারী নৌকার। এতে বালি বোঝাই নৌকাটি সুরমা নদীতে ডুবে যায়।

নৌকায় থাকা ৬ জন শ্রমিকের মধ্যে ৩ জন সাঁতার কেটে তীরে ওঠতে পারলেও অপর তিন জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজরা হলেন- জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের সেরমস্তপুর গ্রামের মৃত রমজান মিয়ার পুত্র তুলাই মিয়া (৫০) কামাল মিয়ার পুত্র এনাম মিয়া (২৩) ও দিরাই উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের হারুন মিয়ার পুত্র হেলাল মিয়া (২২)। বেঁচে যাওয়া ৩ জনের মধ্যে ২ জন আহত হওয়ায় পল্লী চিকিৎসক কের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

এলাকাবসী বলছেন, নদীপথে চলাচলের নীতিমালা থাকলেও নিয়ম নামানা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকী না থাকার কারণেই নদীপথে প্রতিনিয়ত এই হচ্ছে-দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনায় আহত-নিহতের খবর শোনা যাচ্ছে সব সময়।

জামালগঞ্জ উপজেলার মন্নান ঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, রাতের বেলায় বালি বোঝাই ও খালি নৌকার মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় বালি বোঝাই নৌকার তিন জন শ্রমিক সাঁতার কেটে তীরে ওঠতে পারলেও অপর তিন জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এ ঘটনায় বাল্কহেড নৌকার চারজন মাঝিকে আটক করে জামালগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁদের সন্ধানে আমরা কাজ করছি। এ রির্পোট লিখা পর্যন্ত (বেলা সাড়ে ১১) নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।