তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, সুনামগঞ্জ : জামালগঞ্জ উপজেলায় আচমকা (হীট ইঞ্জুরি) সর্বনাশ হয়েছে শতাধিক কৃষকের ৫০০ একর বোরো জমি।

গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ ধমকা গরম বাতাস। ৩ থেকে ৪ ঘন্টা স্থায়ী বাতাসে কৃষকের মাঝে শুরু হয় আতঙ্ক। গভীর রাতে বাতাস কমার পর আতঙ্ক কমে গেলেও সকালে উঠে কৃষকদের মাথায় হাত।

সূর্যের প্রখরতা বাড়ার সাথে সাথে উঠতি বোরো ফসলের শিষ মরতে শুরু করেছে। মাঠের পর মাঠ একই অবস্থা।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাওরাঞ্চলে উঠতি হাইব্রিড জাতীয় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হঠাৎ সন্ধ্যায় কয়েক ঘন্টাব্যাপী গরম ধমকা বাতাসে উঠতি ফসলের শিষ শুকিয়ে যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে এ বছর মোট ২৪ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উপজেলায় মোট ৯৭ হাজার ৯৭৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৬১ মেট্রিক টন।

ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাবুল সরকার, শ্যামল সরকার, সুদিন সরকার ও শেখর সরকার জানান, গত কাল রাতে সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত শুধু গরম বাতাস ছিল। কোনরকম ঝড়বৃষ্টি ছিল না। বাতাসটি অসহ্য মনে হয়েছে। সকালে রোদ উঠার পর হাওরে গিয়ে দেখি তোর আসা ধান মরে শুকিয়ে যাচ্ছে।

আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমাদের সংসার এখন চালাবো কী করে। বেশি ফলনের আশায় হাইব্রিড জাতের ধান রোপণ করেছিলাম। কিন্তু এখন সর্বনাশ হয়ে গেছে। ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিল্টন সরকার জানান, আমাদের জাইঞ্জা দলা, বেতাকী দলা, পুটিয়ার হাওরে বিষ্ণুপুর, নিধিপুর, রাজেন্দ্রপুর, আমানীপুর গ্রামে শতাধিক কৃষকের প্রায় ৫০০ একর জমির ফসল গরম বাতাসে পুড়ে গেছে।

এখন সবার মাঝে আতঙ্ক ও হতাশা বিরাজ করছে। সরকারিভাবে তাদেরকে সহযোগিতা না করলে কৃষকেরা পথে বসবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাশরেফুল আলমের নিকট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা জরিপ করছি। বিশাল হাওরে ক্ষতির বিষয়টি নিরূপণ করতে একটু সময় লাগবে। ধানের ফুল ফোটা পর্যায়ে হিট সক/হিট ইঞ্জুরিতে পড়ায় ছিটা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

এ সময়ে বোরো ধানের যে সকল জাত ফুল ফোটা পর্যায়ে আছে বা এখনও ফুট ফুটছে বা সামনে ফুল ফোটবে সেই সকল জমিতে পানি ধরে রেখে ধানের ফুল ফোটা পর্যায়ে হিট সক/হিট ইঞ্জুরি থেকে রক্ষা করা যেতে পারে। এছাড়া বিঘা প্রতি ৫ কেটি পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, এ বিষয়ে কৃষি অফিসারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা সরজমিনে তদন্ত করে উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে জানালে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ফরিদুল হাসান বললেন,জামালগঞ্জ, দিরাই ও শাল্লার সকল এলাকায় পোকার আক্রমণ নেই ও ধানে হীট ইঞ্জুরি নেই। যেখানে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে, সেখানকার কৃষকদের বিকালে সোনালী মিস নামের কীটনাশক দশ লিটার পানির সঙ্গে দশ মিলিগ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করা জন্য। স্ব-স্ব উপজোর কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারীগণকে জানালে তাৎক্ষনিক ভাবে পরিদর্শন করে প্রতিকারের ব্যবস্থা করা হবে। হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে প্রাকৃতিক কোন বিপর্যস্থ না থাকলে সপাতাহের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা চলবে । আশা করি এবার কৃষকরা ভালো ধান পাবেন।