সন্ত্রাসী হামলায় আহত পর্যটক ও পুলিশের হাতে আটক পর্যটকদের উপর হামলাকারীরা       

# জেগে উঠেছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন # উত্তাল জাফলং # ১ সপ্তাহের জন্য প্রবেশ ফি বন্ধ

মনজুর আহমদ, গোয়াইনঘাট : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ে প্রবেশ ফি নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের স্বেচ্ছাসেবক নামের সন্ত্রাসীদের হামলায় দুই নারীসহ ৫ জন পর্যটক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাফলংয়ের সংগ্রাম বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন প্রবেশ কাউন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত পর্যটকরা হলেন, ঢাকার শ্যামপুরের জুরাইন এলাকার বাসিন্দা সম্রাট ও তার মা ঝর্ণা রাণী, সুমন সরকার ও তার বাবা সনাতন সরকার এবং সুমন সরকারের ভাগনি অথৈ।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক গোয়াইনঘাট অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে হামলাকারী পাঁচজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্ণ গ্রামের রাখাল চন্দ্র দাসের ছেলে লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস ও ইসলামপুর রাধানগরের বাবুল মিয়ার ছেলে সেলিম আহমেদ, একই এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে জয়নাল আবেদীন, নয়াবস্তি গ্রামের ইউসুফ মিয়ার ছেলে সোহেল রানা এবং পশ্চিম কালী নগর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে নাজিম উদ্দিন।

থানা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১ টা দিকে ঢাকার শ্যামপুরের জুরাইন এলাকা থেকে সুমন ও তার আত্মীয় স্বজন মিলে ১২ জন পর্যটক জাফলংয়ে বেড়াতে আসেন। তারা জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় যাওয়ার জন্য সংগ্রাম বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন প্রবেশ মুখের কাউন্টারের সামনে যান।

এ সময় কাউন্টারে দায়িত্বরত কর্মীরা তাদের কাছে প্রবেশ ফি বাবদ ১০ টাকা করে দাবী করে। তখন তারা টাকা দিতে খানিকটা কালক্ষেপণ করলে কাউন্টারে দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিম ও লক্ষণের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে পর্যটকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়, এ সময় স্বেচ্ছাসেবক নামের সন্ত্রাসীরা লাঠি দিয়ে বেধরক মারপিট করে পর্যটক নারী ও পুরুষদের উপর।

হামলায় সম্রাট ও তার মা এবং সুমন ও তার বাবা এবং ভাগনিসহ ৫ জন পর্যটক আহত হন গুরুতর আহত হন।

পর্যটকদের আত্ম-চিৎকারে জাফলং এলাকার বাতাস ভারী হয়ে যায়।

ঘটনার সময় পথচারী পর্যটক ঘটনাটি সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লাইভ করলে এলাকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি পড়ে। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় শুরু হয়।

ঘটনাস্থল থেকে ওসি গোয়াইনঘাট কে এম নজরুল ইসলামকে সংবাদ দিলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরন করে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের পর্যায়ক্রমে আটক করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন। এদিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ৭ দিনের জন্য প্রবেশ ফি মওকুফ করেছেন।

এ বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোনের ইনচার্জ (ওসি) মো. রতন শেখ জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে দুইজনকে এবং পরে আরও ৩জন মোট ৫ জনকে আটক করে হয়েছে।

ওসি গোয়াইনঘাট কেএম নজরুল ইসলাম জানান ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্র সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাটাই এবং দুই দফায় হামলাকারী ৫ জনকে আটক করি। এছাড়া আহতদের উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে তাদেরকে ঢাকায় পাটানোর ব্যবস্থা করি। ওসি বলেন এঘটনা থানায় মামলা রের্কড হয়েছে ধৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

গোয়াইনঘাটের ইউএনও মো. তাহমিলুর রহমান জানান, পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ ফি নিয়ে পর্যটক এবং কাউন্টার কর্মীদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটে গেছে। যা খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় জড়িত কাউন্টার কর্মীদের তাৎক্ষণিক ভাবে বরখাস্ত এবং থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম বলেন, জাফলং পর্যটনকেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ রয়েছে। যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

এসপি বলেন, পর্যটকদের উপর হামলায় জড়িত ৫ জনকে আটক করা হয়েছে এছাড়া জড়িত অন্যান্যদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে জেগে ওঠেছে গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। দোষীদের কঠোর শাস্তি ও স্থায়ীভাবে প্রবেশ ফি বন্ধের দাবিতে শুক্রবার বিকেলে জাফলং, মামার দোকান, পর্যটন স্পটে জৈন্তিয়া কেন্দ্রীয় ছাত্র পরিষদ, সিলেট শহরস্থ গোয়াইনঘাট ছাত্র পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে।