মিয়ানমারের এনইউজি’র সঙ্গে চুক্তির আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিক্ষোভ       

আহমেদ বয়েজীদ : সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি পাশে থাকার আহবান জানিয়েছে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থীদের প্যারালাল সরকার। জাতীয় ঐক্য সরকার নামে সামরিক শাসনের বিকল্প এই সরকার অঙ্গীকার করেছে, গণতন্ত্র ফিরলে রোহিঙ্গাদের প্রতি অন্যায়ের বিচার ও তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গণতন্ত্রপন্থীদের এই বিবৃতিকে রোহিঙ্গাদের অধিকারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। গত কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের সবগুলো সরকার রোহিঙ্গাদের বিদেশী আখ্যা দিয়ে তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। এমনকি ২০১৫ সালে বহু বছর পর দেশটিতে অং সান সু চির নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা ফিরলেও রোহিঙ্গাদের ভাগ্য বদলায়নি। সু চির সরকার রেহিঙ্গাদের আখ্যায়িত করতো রাখাইন রাজ্যের মুসলিম হিসেবে। ২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডের হেইগ শহরে আন্তর্জাতিক আদালতের শুনানিতে সু চি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পক্ষ নেন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

জাতীয় ঐক্য সরকারে অং সা সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির অনেক নেতাও রয়েছেন। এক বিবৃেিত এই সরকার দাবি করেছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মানসিকতা পরিবর্তন হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সব মানুষ রোহিঙ্গাদের দুর্দশার প্রতি সহানুভ‚তিশীল। যে রকমভাবে তারা এখন স্বৈরশাসন ও সহিংসতার অভিজ্ঞতা লাভ করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখন সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে সব মানুষের ঐক্য গড়ে তোলা। আমরা আত্মবিশ^াসী যে, এমন ঐক্য গড়ে তুললে তা দেশের সব নাগরিকের দাবি পূরণ করবে, যারা মিলেমিশে দেশের ভবিষ্যত গড়বে।
বিবৃতিতে নেতারা আরো বলেছেন, ১৯৮২ সালে প্রণীত রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিলের আইনটি বিলুপ্ত করা হবে। সবাইকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়া হবে। এমনকি, মিয়ানমারের নাগরিকদের যেসব সন্তান দেশের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন তারাও পাবে নাগরিকত্ব।

চলতি বছরের পহেলা ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং ক্ষমতা দখল করার পর এই জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন করে প্রতিবাদী গণতান্ত্রিক নেতারা। যদিও মিয়ানমার এখন চলছে সামরিক জান্তার নেতৃত্বে। সামরিক শাসন বিরোধী বিক্ষোভে নিহত হয়েছে অন্তত সাড়ে আটশো মানুষ। ঐক্য সরকারের নেতারা বলছেন, বিদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং তাদের ওপর সামরিক বাহিনীর নির্যাতন-নিপীড়নের বিচার করা হবে।

সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে থেকে পালিয়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশের মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে। এদের মধ্যে ২০১৭ সালের গণহত্যার সময়ই দেশ ছেড়েছে সাড়ে সাত লাখ।

গঠনের পর থেকেই জাতীয় ঐক্য সরকার আন্তর্জাতিক মহলগুলোর স্বীকৃতি চাইছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ তাদের কাছে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের বিষয়ে মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতেই এলো এই বিবৃতি। যাকে রোহিঙ্গাদের ভাবিষ্যতের জন্য আশার বাণী বলে মনে করা হচ্ছে।