এম এ করিম, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জাতীয় পার্টির কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের কালিকচ্ছ (মধ্যপাড়া) এলাকার ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির উদ্যোগে উক্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

কালিকচ্ছ ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সদস্য মো. ইমান আলীর সভাপতিত্বে ও উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম-সম্পাদক দুলাল সুত্রধর এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির আসন্ন সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সরাইল উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির, উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক সালেক, যুগ্ম সম্পাদক হাফেজ আলী নেওয়াজ, সরাইল জাতীয় মহিলা পার্টির সভাপতি নাজমা বেগম, আশুগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক আজাদুর রহমান স্বপন, সদস্য জামাল মিয়া, কালিকচ্ছ ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সায়েদ হোসেন, কালিকচ্ছ ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবুল ফাতাহ্ মো. মাসুক, অরুয়াইল ইউনিয়ন জাতীয় সংহতির সভাপতি দুলাল মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক সাত্তার মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক আক্তার মিয়া। মন্জু মিয়া, মো. জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ মিয়া, জেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের যুগ্ম আহবায়ক হোসাইন মো. আজাদ, সরাইল উপজেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের আহবায়ক হোসাইন শাওন, যুগ্ম আহবায়ক শেখ মামুন, সদস্য সচিব মো. রাসেল লস্কর, সরাইল সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম সমাজসেবক বাবুল মিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সম্মেলনে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা বলেন, আপনাদের মধ্যে তথা সারা বাংলাদেশে সম্ভবতঃ একটা বিভ্রান্তি কাজ করছে। কেউ কেউ বলে জিয়াউল হক মৃধাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অনেকে বলে জিয়াউল হক মৃধা জাতীয় পার্টির পদ হারাইছে।

উপস্থিত নেতা-কর্মীদের প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির মূল ধারার নেতা পল্লীীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। নিয়ম অনুযায়ী এরশাদের মৃত্যুর পর পার্টির চেয়ারম্যান হবে তাঁর স্ত্রী রওশন এরশাদ। কিন্তু রাতের অন্ধকারে একদল দুর্বৃত্ত পল্লীীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের যুগ যুগ ধরে স্বাক্ষর আদায় করে জিএম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষনা করে।

তিনি বলেন, জিএম কাদেরের প্রতি আমার কোনো অশ্রদ্ধা নেই। আমি চেয়েছি সবকিছু ধারাবাহিকভাবে আসুক। কিন্তু রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে স্বাক্ষর নিয়ে জিএম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষনা করে এরশাদের পরিবারকে অপমান করা হয়েছে। এরশাদের সন্তানদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করা হয়েছে। কাগজ পত্র অনুযায়ী জাতীয় পার্টির সদস্য ৩১০ জন থাকার কথা থাকলেও এখন সদস্য পৌনে ৭ শত। যাকে খুশি তাকেই বিশেষ সুবিধায় সদস্য বানিয়ে ফেলা হয়। আমি এসব অগণতান্ত্রিক ধারার বিরুদ্ধে লড়ছি।

তিনি আরও বলেন, ২৬ নভেম্বর জাতীয় পার্টির সম্মেলন করতে ৮ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। এতে ৭জন যুগ্ম আহবায়কের মধ্যে আমি একজন। পল­ীমাতা রওশন এরশাদ আমাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছেন। এই সম্মান দেওয়ার পর জিএম কাদের তার বিশ্বস্থ লোক দিয়ে আমাকে বলেছেন, মৃধা তোমি বল, রওশন এরশাদের সাথে তুমি নাই। আমি বলেছি আমি পারব না। এরশাদ পরিবারের বাইরে আমি যেতে পারব না। যেখানে ন্যায় সেখানে আমি আছি।

জাতীয় পার্টিতে যারা বিভ্রান্তের মধ্যে আছে তাদের উদ্দেশ্যে জাতীয় পার্টির সমস্ত অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে কালিকচ্ছের এই সম্মেলন থেকে বিদ্রোহ ঘোষনা করে তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত জাতীয় পার্টিকে শান্তির পার্টি, পদ পদবীর পার্টি বাদ দিয়ে ভাল মানুষের পার্টি করতে না পারি ততদিন পর্যন্ত আমার এই সংগ্রাম চলবে।