ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের বায়ুতাড়িত জলোচ্ছাসে দুবলারচর ডুবে যাওয়ায় জেলেদের শুঁটকি মাছ সাগরে ভেসে গেছে। দুবলার আলোরকোল থেকে রোববার সকালে নেওয়া ছবি। ছবি: খোলাবার্তা২৪ 

শেখ মোহাম্মদ আলী, সুন্দরবন অঞ্চল প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণীঝড় জাওয়াদের সৃষ্ট জলোচ্ছাসে দুবলারচর ডুবে গেছে।পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে ও ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার শুটকি মাছ এবং চরের দোকানীদের রসদসামগ্রী। সাগর উত্তাল থাকায় ফিশিংবোট ও জেলে নৌকাবহর সুন্দরবনের খালে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।

দুবলার মাঝেরকেল্লা থেকে শরণখোলার জেলে ইউনুস আলী ফকির এবং খুলনার মৎস্যজীবি ফরিদ মিয়া রোববার সকালে মোবাইল ফোনে জানান, শনিবার রাতে ঘূর্ণীঝড় জাওয়াদের আংশিক ঝড় দুবলারচর অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যায়। প্রবল বর্ষণের সাথে বঙ্গোপসাগরের অমাবশ্যার জোয়ারে পানি ৩/৪ ফুটের উচ্চতার জলোচ্ছাসে মাঝেরকেল্লাসহ আশেপাশের চর সমূহ ডুবে যায়। জলোচ্ছাসের পানিতে মাঝেরকেল্লায় কোটি টাকার শুঁটকি মাছ ভিজে নষ্ট হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ মাছ সাগরে ভেসে গেছে।

ঝড়ের তান্ডবে জেলেদের অস্থায়ী ছাউনি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় জেলেরা দুর্ভোগে পড়েছেন বলে ঐ জেলেরা জানিয়েছেন।

আলোরকোল থেকে জেলে সমিতির সেক্রেটারী রামপালের তাহের আলী জানান, শনিবার রাতে আলোরকোলে জেলেদের মাছ শুকানোর মাচা ও খোলা (মাঠ) ৩/৪ ফুট সাগরের পানির নীচে ডুবে যায় ফলে শত শত জেলের মাছ ভেসে যায় ও ভিজে নষ্ট হয়েছে। জেলেদের থাকার এবং রান্নাবান্নার জায়গা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় তারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন বলে তাহের আলী বলেন।

রামপালের জেলে পংকজ কুমার, মোদাচ্ছের ফরাজী এবং চাকলার জেলে আঃ রউফ জানান, মৌশুমের শুরুতে বেশী মাছ পেয়ে তারা আশাব্যঞ্জক হয়েছিলেন যে, এবছর ভালো ব্যবসা করবেন কিন্তু হঠাৎ করে সাগরের পানিতে শুঁকাতে দেয়া আলোরকোলে প্রায় চারশত খোলার বিপুল পরিমাণ মাছ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ফলে তারা বেশ অংকের আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছেন।

অন্যদিকে, চরে বন বিভাগের অনুমতিতে জেলেদের জন্য চালু হওয়া বিভিন্ন পণ্যের শতাধিক দোকানে বিক্রির জন্য মজুদ করে রাখা চাল ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় রসদসামগ্রী পানিতে ডুবে বিনষ্ট হয়েছে বলে মোংলা এলাকার দোকানী নাজমুল শেখ ও সাতক্ষীরার তালার হাফিজুল সরদার জানিয়েছেন।

দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদে দুবলারচরে জেলেদের অনেক ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে বলেন, ঘূর্ণীঝড় আমফান ও ইয়াসের জলোচ্ছাসে মাটি ধুয়ে দুবলারচরের মাছ শুঁকানোর খোলা (মাঠ) নীচু হয়ে যাওয়ায় অমাবশ্যা পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে চরের মাছ শুঁকানোর জায়গা ডুবে যায়। তিনি সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন করে চরের ভূমি উঁচু করে দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানান। অনুমতি পেলে তারা নিজেরা বালু উত্তোলন করে নিতে পারেন বলে ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি জানিয়েছেন।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহলাদ চন্দ্র রায় মুঠোফোনে জানান, মঙ্গলবার রাতে জলোচ্ছাসে দুবলার আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়ীয়া ও শ্যালারচর তিনফুটের বেশী পানির নীচে ডুবে যায়। ফলে জেলেদের বিপুল পরিমাণ শুঁটকি মাছ সাগরে ভেসে যায় এবং অনেক মাছ ভিজে নষ্ট হয়েছে। প্রাথমিক আনুমানিক হিসেবে জেলেদের দুইকোটি টাকার বেশী ক্ষতি হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় অনেক ফিশিংবোট ও জেলে নৌকা সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে বলে ঐ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।