আবদুল ওহাব, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : কোন রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতা ও জনসেবায় অনন্য অবদান এবং অপরাধ, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরোধিতায় কঠোর অবস্থানের কারণে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকে সুদীর্ঘ পথ অতিক্রম করছেন বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু।

১৯৯২ সালে তিনি প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

যুবক থেকে বৃদ্ধ একটানা ৩০ বৎসর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পর গত ২৮ নভেম্বর ২০২১ তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তিনি আবারো বিপুল ভোটে ষষ্ঠবারের মত গোহাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ করলেন তার জনপ্রিয়তা এখনও শীর্ষে।

যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৩৮২১ ভোট সেখানে আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু পেয়েছেন ১০৫২১ ভোট। তার এই বিশাল ভোট প্রমাণ করে, কর্মদক্ষতা ও জনসেবায় অনন্য অবদান রাখায় তিনি এলাকার জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের খাদাস গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত খয়রাত আলী তালুকদার এবং মাতা মৃত হামিদা বেগম। তরুণ বয়স থেকেই তিনি উদারতা ও মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন বলে জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, দায়িত্ব পালনে অভিজ্ঞতা ও এলাকার উন্নয়নে তার কর্মদক্ষতা অতুলনীয়। তাই স্বতন্ত্র ও রাজনৈতিক পরিচয়েও বার বার সর্বোচ্চ ভোটে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন ব্যক্তি পরিচয়েই জনগণ তাকেই চাইবে।

এ ছাড়াও সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে তার জনপ্রিয়তায় কেউ চিড় ধরাতে পারেনি। এলাকার জনগণের কাছে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও তার গ্রহণযোগ্যতা সকল রাজনৈতিক দল, নেতাকর্মীর কাছে সমান।

এ প্রসংগে গোহাইল গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বী গোবিন্দ মহন্ত বলেন, সকল ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বিদ্যমান। কারণ, তার মতো অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি গোহাইল ইউনিয়নে আজও বিরল। খাদাস গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, এলাকার দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সমাজে বিচার-শালিসে বৈষম্য না করা এবং এলাকার উন্নয়নে আলী আতোয়ার তালুকদার ফজুর বিকল্প নাই। শুধু তারা নয়, এলাকার সকলেই তাকে মান্য করে।

এদিকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ ৩০ বৎসর একাধারে পথচলার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু বলেন, এ পদে থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে জনপ্রিয় হওয়াটা সহজ। ধনী গরীবের পক্ষপাতিত্ব না করা, গরীব অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায় প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক বিচার-শালিস করা, সরকারী বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সর্বোপরী ভাল ব্যবহার ও মানবিক গুণাবলী হৃদয়ে ধারণ করলে জনগণের হৃদয়ে স্থান পাওয়া অতি সহজ।

তিনি আগামী বছরগুলোতে এলাকার উন্নয়ন ও গরীব-দুঃখী মানুষের প্রতি তার আন্তরিকতা সমান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।