ফাইল ছবি

খোলাবার্তা২৪ ডেস্ক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর বলেছেন, এত ভয় পান কেন? ভয় পান এজন্য যে, আপনাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। জনগণ যেদিন বের হবে রাজপথে, সেদিন আপনারা পালাবার পথও খুঁজে পাবেন না।

শুক্রবার ২৯ অক্টোবর এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তিনি গতকাল (বৃহস্পতিবার) একটা কথা বলেছেন যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী চান দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে- এটা দেখতে চান, অবাধ নির্বাচন হবে সেটা দেখতে চান, সবাই ভোট দিতে পারবে সেটা দেখতে চান।’ ভুতের মুখে রাম নাম।

তিনি বলেন, এই তিন তিনটা ইলেকশন তারা ধ্বংস করল। গোটা নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এমন একটা অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, শরীয়তপুরের এমপি তিনি বলছেন, আমি ঠিক করে দেব কে চেয়ারম্যান হবে, কে মেম্বার হবে, অন্য কেউ দাঁড়াতে পারবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা চিন্তাই করতে পারি না আমাদের দেশে এমন…। ৭১ সালে এরকম গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই করেছিলাম, সেই গণতন্ত্রকে একেবারে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়ে তারা এখন একটা একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, এরা ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না। তাদের সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। সহনশীলতা বলতে তাদের কিছু নেই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আওয়ামী লীগ যে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে- এটার প্রতিবাদে কয়েকদিন আগে আমরা আমাদের অফিসের সামনে সভা করেছিলাম। সভা শেষে আমাদের ছেলেরা যখন ফিরে যাচ্ছিল, তখন পেছন থেকে তাদেরকে আক্রমণ করে, লাঠিচার্জ করে, গুলিবর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, আহত করা হয়েছে অনেককে। উল্টো তারা আবার মামলা দিয়েছে শত শত মানুষের বিরুদ্ধে।

প্রশাসনকে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, আজকে সরকার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের পকেট কেটে আওয়ামী লীগ নিজেদের পকেট ভারী করছে। হাজার হাজার কোটিপতি তৈরি হচ্ছে। আর সাধারণ মানুষ গরিব থেকে গরিব হয়ে যাচ্ছে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকারকে হটাতে একটি ‘দুর্বার আন্দোলন’ গড়ে তুলতে সবাইকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

সংগঠনের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, নির্বাহী কমিপির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা উত্তর মহানগরের সদস্য সচিব আমিনুল হক, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের গোলাম সারোয়ার প্রমুখ বক্তব্য দেন।