এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি : বউ সাজিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বাড়িতে নিয়েও স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়নি মাহমুদা আক্তার প্রিয়া (২১) নামে এক কলেজছাত্রীকে। উল্টো প্রেমিকের বাবা রাজবাড়ী মুলঘর ইউপি চেয়ারম্যান সেখ ওহিদুজ্জামান নিজে নির্যাতন করে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন তাকে। আহত অবস্থায় ওই কলেজ ছাত্রীকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুন) রাতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নে এড়েন্দা গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে।

আহত কলেজ ছাত্রী মাহমুদা আক্তার প্রিয়া ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মণদিয়া গ্রামের কালাম মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি শিবচরের ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

মঙ্গলবার (২১ জুন) সকালে হাসপাতালের বেডে শুয়ে মাহমুদা আক্তার প্রিয়া জানান, তার মামার বাড়ি রাজবাড়ীতে। মামার বাড়িতে আসা-যাওয়ার মধ্য দিয়ে মূলঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ ওয়াহিদুজ্জামানের ছেলে হিমেলের সাথে গত পাঁচ বছর আগে তার প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। এ সর্ম্পকের জেরে সোমবার (২০ জুন) দুপুরে হিমেল তাকে বিয়ে করবে বলে তার বাড়ির সামনে থেকে প্রাইভেটকার যোগে ফরিদপুর নিয়ে আসেন। সাথে তার ছোট বোন রিয়াও আসে। এরপর ফরিদপুর থেকে তারা খাওয়া-দাওয়া করে বিকালে হিমেল তাদেরকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন।

প্রিয়া আরও জানান, এর আগে হিমেল তার বিকাশ নম্বরে দুই হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়ে তাকে বিয়ের শাড়ি কিনতে বলেন। হিমেলের কথামতো তিনি বিয়ের শাড়ি কেনেন এবং হিমেলের সাথে আসার আগে সেটি পড়েও আসেন। হিমেলের বাড়িতে আসার পর হিমেল তাদের দুই বোনকে বাড়িতে রেখে পালিয়ে যান। এরপর হিমেলের বাবা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ওয়াহিদুজ্জামান ও তার স্ত্রী তাদের দুই বোনকে ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শেখ ওয়াহিদুজ্জামান ও তার স্ত্রী তাকে শারীরিক নির্যাতন করে রাতে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। এই ঘটনার পর সে ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ তাদেরকে রাজবাড়ী থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে বলেন। এরপর তিনি ও তার ছোটবোন তার মামাদের সহযোগিতায় থানায় এসে বিস্তারিত জানান। পরে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রিয়ার ছোট বোন দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার রিয়া জানায়, তার বড় বোন প্রিয়াকে যখন মারপিট করা হচ্ছিলো তখন সে তাকে রক্ষা করতে যায়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ওয়াহিদুজ্জামান তাকেও মারপিট করেন। এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চায় রিয়া।

প্রিয়ার মা শাফিয়া বেগম জানান, প্রিয়ার সাথে হিমেলের পাঁচ বছরের প্রেম ছিলো। এর মধ্যে হিমেল বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার মেয়ের সাথে শারীরিক সর্ম্পকও করেছে। বিষয়টি তার মেয়ে তাকে বলেছে। সোমবার (২০ জুন) হিমেল প্রিয়াকে বিয়ে করবে বলে হিমেলদের বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু হিমেলের বাবা প্রিয়াকে মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। এই ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ ব্রাদার আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানান, প্রিয়ার নাক-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রেখে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এই বিষয়ে কথা বলতে মোবাইলে হিমেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রিয়ার সাথে আমার ফেসবুকে কথাবার্তা হতো। এর বাইরে তার সাথে আমার আর কোনো সম্পর্ক নেই। সে আমার ঠিকানা যোগাড় করে সোমবার বিকালে বাড়িতে এসে ওঠে। এরপর সে আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। যে কারণে আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে কালুখালীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছি। এখন বিয়ে করার জন্য প্রিয়া আমাকে ব্লাকমেইল করছে।

আপনার বাবা ঘরে আটকে রেখে প্রিয়াকে মারধর করেছে বলে প্রিয়া ও তার ছোট বোন রিয়া অভিযোগ করেছে। এমন প্রশ্নে হিমেল বলেন, এসব ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্র করে আমাকে ও আমার বাবাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই ব্যাপারে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ওয়াহিদুজ্জামানের মোবাইল নম্বরে কল করা হলে তিনি জানান, এ সব মিথ্যা। তার বিরুদ্ধে কিছু কুচক্রি মহল ষড়যন্ত্র করে এ সব করে।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। মামলা হয়েছে।তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।