ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার উভাজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরী কাম দপ্তরি ভজন অধিকারীর বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। দপ্তরির অসদাচরণের কারণে ছাত্রীরা বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এ নিয়ে বিদ্যালয়ে সালিশ করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২০২০ সালের শুরুর দিকে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে খালি শ্রেণিকক্ষে নিয়ে অনৈতিক কাজের চেষ্টা করে ভজন অধিকারী। এ নিয়ে ওই ছাত্রীর অভিভাবক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পরে এ নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সালিশের মাধ্যমে ঘটনার মিমাংসা করে। ভজন অধিকারী ভবিষ্যতে এ ধরনের অনৈতিক কাজ করবে না মর্মে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মুচলেকা দেন।

তবে কথায় আছে, চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। এরপরও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে। তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে টাকার বিনিময়ে চুমা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় সে। স্কুলের বেসিনে ছাত্রছাত্রীদের টিফিনের প্লেট ধোয়ার জন্য বকাঝকা করে। সম্প্রতি স্কুলের পাশ্ববর্তী নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজের সময় এলাকাবাসীর কাছে ধরা পরে সে।

স্থানীয়রা জানান, ভজন অধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তার কারণে ছাত্রীরা স্কুল ছেড়ে চলে যাচ্ছে। স্কুলের কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে এ ধরনের অনৈতিক কাজের জন্য কঠিন শাস্তি দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি নন ভজন অধিকারী। তিনি বলেন, আমি কিছুই বলবো না। আমার বিষয়ে যা বলার স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান ও নালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আশিস শিকদার বলবেন।

ভজন অধিকারীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কথা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ইতিপূর্বে ভজন অধিকারীর বিরুদ্ধে শালিসে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা চান। সাম্প্রতিক সময়ে এই বিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপারে তিনি মৌখিকভাবে শুনেছেন। এসব অপকর্মের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত জানাবেন তিনি।

নালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস মধু বলেন, এ বিষয়ে আমি শুনেছি। মিসাংসার জন্য ডেকেছিলাম, সে আসেনি।