সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনায় শনিবার রাত ৯টার দিকে ছাতক থানায় হামলা হয়।

হামলার ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ ব্যক্তি আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৯ জনকে আটক করেছে।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, ছাতক পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান, সিনিয়র এএসপি ছাতক সার্কেল বিল্লাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাওলানা মামুনুল হক রিসোর্টে আটকের খবরে তার অনুসারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যায় বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড-খন্ড বিক্ষোভ মিছিল শহরের আসতে থাকে। লাঠিসোটা নিয়ে শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার সময় মিছিলকারীরা ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্বরত পুলিশকে ধাওয়া করে।

ধাওয়া খেয়ে কর্মরত পুলিশ পয়েন্ট সংলগ্ন একটি দোকানে আশ্রয় নেয়। এ সময় মিছিলকারীরা ওই দোকানে আশ্রয় নেয়া পুলিশের উপর হামলার উদ্দেশ্যে জমির উদ্দিনের আল আমিন ষ্টোর, বিশ্বজিত ঘোষের রাধারাণী এন্টারপ্রাইজ, রতনমনি ঘোষের সুশিলা ষ্টোর ও রাজন ঘোষের এনআর ফার্মায় হামলা ও ভাংচুর চালায়। পরে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে থানায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।

এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশ সূত্রমতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা ১০৮ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ২৬ রাউন্ড টিআরসেল নিক্ষেপ করেছে।

বিক্ষোভকারীরা থানার গোলঘর ভাংচুরসহ পুলিশ সদস্য রাকিব, দিলসাদ, রবিউল আলম, সাইদুল ও সুবল দাস, পথচারী জুয়েল, সুজন মিয়া, দোকান কর্মচারী আলী আহমদসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের ছাতক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এদিকে, হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জয়নাল আবেদীন (২৮), রাজন আহমদ (২৬), একরাম হোসেন (২২), সামছুদ্দিন (২৩), সুমন আহমদ (২০), আলী হোসেন (২৮), মোস্তাফিজুর রহমান ফাহিম (১৯), জনি আহমদ (১৯) ও আবুল হোসেন (৩০) কে আটক করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে হেফাজত ইসলামের উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুল হান্নান জানান, এ হামলার ঘটনার সাথে হেফাজতের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন ৯ জন আটকের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, বিনা উসকানীতে আকস্মিক পুলিশের উপর হামলা করেছে মামুনুল হকের সমর্থকরা। ঘটনার সময় থানার অধিকাংশ পুলিশ কর্মকর্তা গোবিন্দগঞ্জে খেলাফত মজলিসের মাওলানা শফিক উদ্দিনের জানাজায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।