সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতকে তেরা মিয়া হত্যা মামলায় মধু মিয়া নামের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও ৩১ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে ২৭ জন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মহিউদ্দিন মুরাদ। মামলা দায়ের দীর্ঘ ২২ বছর পর আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২২ নভেম্বর সকালে ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নে বলারপীরপুর গ্রামের তেতইখালী খালে সেতু নির্মাণের বিরোধকে কেন্দ্র করে আব্দুল হাই আজাদ মছকু মিয়া ও আরজু মিয়ার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় বন্দুকের গুলিতে আরজু মিয়ার বড়ভাই তেরাব মিয়া (৬২) মারা যান ও উভয়পক্ষের ৩০ জন আহত হন। বন্দুকের গুলিতে গুরুতর আহত তেরাব আলীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৪ নভেম্বর ছাতক থানায় ৪৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা চলাকালীন ৮ জন আসামি মারা যায় আরও ১৩ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। ছাতক থানার তৎকালীন ওসি ২০০৪ সালের ২১ এপ্রিল আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এই মামলায় ২২ জনের স্বাক্ষীগ্রহণ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি গোলাম মোস্তফা বলেন, খালে সেতু নির্মাণের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বন্দুকের গুলিতে তেরা মিয়া মারা যান। আদালত রায়ে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড এবং ৩১ জনকে খালাস দিয়েছেন। রায়ে সন্তুষ্ট বাদীপক্ষ। আসামি পক্ষের আইনজীবী সালেহ আহমদ বলেন, রায়ে আসামি পক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।